a
ফাইল ছবি
পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া, যদি তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে তাহলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসব কথা বলেন। খবর ইকনোমিক টাইমস।
তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার- রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে অস্বীকৃতি জানালে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য তা বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি কত হবে তা অনিশ্চিত। তবে সেটি ৩০০ ডলার অথবা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইউরোপের মোট চাহিদার শতকরা ৪০ ভাগ গ্যাস সরবরাহ করে থাকে রাশিয়া।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এরপর তেলের দাম গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস যোদ্ধাদের হাতে আটক ইসরায়েলের স্বজনরা।
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও জিম্মিদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে না পারায় ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিলেন স্বজনরা। আর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জিম্মিদের উদ্ধারের নামে হামাস নির্মূলের অজুহাতে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে অব্যাহতভাবে আগ্রাসন চালিয়ে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে ইহুদিবাদী দেশটি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জেরুজালেমে নেসেটে সংসদীয় একটি কমিটির অধিবেশন চলাকালে জিম্মিদের স্বজনদের একটি দল সেখানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করেন। এ সময় তারা আইনপ্রণেতাদের প্রতি প্রিয়জনদের মুক্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার করার দাবি জানান।
সোমবার সংসদে বিক্ষোভ প্রতিবাদের সময় এক নারীর হাতে গাজায় জিম্মি তার তিন স্বজনের ছবি দেখা যায়। জিম্মি স্বজনদের দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন তিনি। নভেম্বরে দফায় দফায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে কিছু জিম্মিকে মুক্ত করে ইসরায়েল। তবে হামাসের হাতে এখনও গাজায় প্রায় ১৩০ জিম্মি বন্দি রয়েছেন।
নেসেটে ফাইন্যান্স কমিটির আলোচনার সময় সেখানে ঢুকে স্বজনদের মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান ওই নারী। এ সময় কান্না করতে দেখা যায় তাকে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি কেবল তাদেরকে জীবিত ফিরে পেতে চাই।”
কালো টি-শার্ট পরা অন্য বিক্ষোভকারীদের হাতেও বিভিন্ন দাবি সংবলিত পোস্টার দেখা যায়। একজনের হাতে ‘‘তারা সেখানে মারা গেলে আপনি এখানে বসতে পারবেন না’’ লেখা পোস্টার দেখা যায়। ‘‘তাদের এখনই, এখনই, এখনই মুক্ত করুন’’ স্লোগান দেন তারা। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে রাখে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা।
এদিকে, হামাসের সাথে ইসরায়েলের নতুন জিম্মি মুক্তি নিয়ে চুক্তির ব্যাপারে মিশর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ করা হয়। তবে সেই চুক্তি কতটুকু আলোর মুখ দেখবে তা সন্দিহান। কারণ ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প করেছে।
আর হামাস ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি জ্যেষ্ঠ সব ফিলিস্তিনি নাগরিককে মুক্তি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার না করলে জিম্মিদের জীবিত বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রত্যাক্ষান করেছে। এরই মধ্যে হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, স্কাই নিউজ, বিবিসি, রয়টার্স, এনবিসি নিউজ
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরও ১ সপ্তাহ বাড়তে পারে। এমনটাই চিন্তাভাবনা করছে সরকার। লকডাউন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধির ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনার সংক্রমণ এখনো অনেক বেশি। তাই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামী সোমবারের বৈঠকে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউন বাড়ানোর পরামর্শ আছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯ এপ্রিলের সভার পর ওই দিন বা ২০ এপ্রিল কী হবে, তা জানানো হবে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং করোনায় প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। গেল বছর কয়েক দফায় বৃদ্ধি করে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল।
এক পর্যায়ে করোনার সংক্রমণ অনেক কমেও গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে হঠাৎ করোনার সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করে।
এমন পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গত ১৪ থেকে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু করা হয়।