a
ফাইল ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বজ্রপাত যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে দেশটির তিন রাজ্যের প্রায় ৫০০ মাইল এলাকাজুড়ে এই বজ্রপাতটি হয়েছিল।
এ ব্যাপারে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, একটিমাত্র বজ্রপাত টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ৪৭৭ দশমিক ২ মাইল এলাকায় হয়েছিল। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বজ্রপাতের রেকর্ড এটি। আবার একই বছর উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চলে ১৭ দশমিক ১ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল একটি বজ্রপাত।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির র্যান্ডাল সিরভানি জানান, সাধারণত বজ্রপাত ১০ মাইলের চেয়ে বেশি অঞ্চল ছড়িয়ে পড়ে না এবং এটি এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হয়। এই দুটি বজ্রপাতের রেকর্ড একেবারেই ভিন্ন। উভয়টিই মেঘ থেকে মেঘ, মাটি থেকে কয়েক হাজার ফুট উপরে শেষ হয়েছিল, তাই কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। সূত্র: বিবিসি/বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
গাজায় সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রায় দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগ ভিত্তিক জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানটি।
ইসরায়েলকে গণহত্যা প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে। পাশাপাশি ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে ও নিজেদের পক্ষে প্রমাণ সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই আদেশে গাজায় ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে সমস্ত প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আদালতের অস্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে—
১. ইসরায়েলকে অবশ্যই গণহত্যামূলক বলে বিবেচিত হতে পারে এমন যে কোন কাজ প্রতিরোধ করার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে—একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা, শারীরিক ক্ষতি ঘটানো, একটি গোষ্ঠীর ধ্বংস ঘটাতে পরিকল্পিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, জন্ম রোধ করা ইত্যাদি।
২. ইসরায়েলকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তার সামরিক বাহিনী কোনো গণহত্যামূলক কাজ করবে না।
৩. ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় গণহত্যার জন্য উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে এমন কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য প্রতিরোধ ও শাস্তি দিতে হবে।
৪. মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইসরাইলকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ইসরায়েলকে অবশ্যই গণহত্যার মামলায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন প্রমাণ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
৬. ইসরায়েলকে এই আদেশের এক মাসের মধ্যে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আদালত হামাসের হাতে জিম্মিদের ভাগ্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ই্ত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত
গ্রাজুয়েশন শেষ করে ছেলে একদিন বাবাকে জিজ্ঞেস করল,
— বাবা, সফল জীবন কাকে বলে?
বাবা সরাসরি কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু মৃদু হেসে বললেন,
— চল, আজ ঘুড়ি ওড়াই। তখন তোমাকে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেব।
ছেলে বিস্মিত হয়ে বলল,
— এই বয়সে ঘুড়ি ওড়াবেন বাবা? আজব তো!
কিছু না বলে বাবা ছেলের হাত ধরে টেনে বাড়ির পেছনের মাঠে নিয়ে গেলেন। সেখানে কয়েকজন ছোট্ট বাচ্চা রঙিন ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। বাবা তাদের একজনের কাছ থেকে একটা ঘুড়ি চেয়ে নিলেন। তারপর নাটাই হাতে নিয়ে ঘুড়ি ওড়াতে শুরু করলেন। সুতা আস্তে আস্তে ছাড়তে ছাড়তে ঘুড়িটাকে আকাশের অনেক ওপরে তুলে দিলেন। ছেলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল।
একসময় বাবা বললেন,
— দেখছো খোকা? ঘুড়িটা কত ওপরে উঠেছে, অথচ এখনও সুতো ধরে রাখা আছে। তোমার কি মনে হয় না, এই সুতোর টানটাই ওকে আরও ওপরে যেতে বাধা দিচ্ছে?
ছেলে কিছু না ভেবেই বলল,
— হ্যাঁ, ঠিকই তো! সুতো না থাকলে ঘুড়ি আরও উপরে উঠতে পারত।
মৃদু হাসলেন বাবা। তারপর হালকা টানে সুতা কেটে দিলেন। মুক্ত ঘুড়ি প্রথমে একটু ওপরে উঠল বটে, কিন্তু তারপরই দিশাহীন হয়ে দুলতে দুলতে নেমে এল নিচের দিকে... অবশেষে কোথায় যেন হারিয়ে গেল দৃষ্টিসীমার বাইরে।
বাবা এবার ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন,
— দেখলে খোকা? জীবনে যখন আমরা কোনো উচ্চতায় থাকি, তখন মনে হয় — কিছু বন্ধন আমাদের টেনে রাখছে। যেমন পরিবার, মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধুবান্ধব, নীতিবোধ, দায়িত্ব, শৃঙ্খলা — এসব আমাদের পেছন থেকে টেনে ধরছে, আমাদের আর এগোতে দিচ্ছে না। তখন আমরা ভাবি, এই সবকিছু থেকে মুক্ত হলেই বুঝি অনেক ওপরে উঠে যাব।
— কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঠিক এই বন্ধনগুলোর জন্যই আমরা টিকে থাকি। এগুলোই আমাদের ভারসাম্য দেয়, পথ দেখায়, পতন থেকে রক্ষা করে। সুতা ছাড়লে যেমন ঘুড়ি পড়ে যায়, তেমনি বন্ধন হারালে আমরাও অচিরেই পতিত হই।
— মনে রেখো খোকা, সফল জীবন মানে কেবল ওপরে ওঠা নয়। সফল জীবন মানে হলো, নিজের শিকড়ের সাথে যুক্ত থেকে, দায়িত্বের বাঁধনকে সম্মান করে, মনের আকাশে টিকে থাকা। যারা বন্ধনকে ভালোবাসে, তারাই সত্যিকারের সাফল্যের শিখরে পৌঁছে।
এটাই জীবনের সত্য। এটাই সফল জীবন।
.....ফেসবুক থেকে সংগৃহীত