a
সংগৃহীত ছবি
শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কান উপদ্বীপে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৮.২। তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে আলাস্কান উপদ্বীপসহ এর আশপাশের এলাকায়। খবর রয়টার্স এর।
জানা গেছে, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল পেরিভিলে শহর থেকে ৯১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ভূমিকম্পের প্রভাবে আগামী ৩ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উপকূলে সুনামি আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবরে আলাস্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির ঘটনা ঘটলেও বিশেষ সতর্কতার কারণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফাইল ফটো: রাণী এলিজাবেথ, মেগান ও প্রিন্স হ্যারি
নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মারকেল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এনেছেন। ইতিমধ্যে রাণী এলিজাবেথের পক্ষে সেই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাকিংহ্যাম প্যালেস।
মেগান মার্কল ও প্রিন্স হ্যারির সেই অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টিতে রানি উদ্বিগ্ন বলে বিবৃতি দিয়েছে বাকিংহ্যাম প্যালেস।
বাকিংহ্যাম প্যালেসের বিবৃতির মাধ্যম দিয়ে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারের পর বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান একটা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে পার করেছেন। এতে করে বিষয়টি রাজ পরিবারকে ব্যথিত করেছে বলে জানানো হয়। হ্যারি-মেগানের ছেলে অর্চির গায়ের রঙ নিয়ে রাজ পরিবারে উদ্বেগ ছিল বলে যে অভিযোগ মেগান তুলেছেন তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে রাজপরিবার।
তবে এক্ষেত্রে ডিউক অব সাসেক্স হ্যারি ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগানের বোঝার ভুলও হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস রাজপরিবারের। পারিবারিকভাবে এই ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছেন রানি এলিজাবেথ। কারণ তিনি মনে করেন, তারা (হ্যারি, মেগান এবং তাদের ছেলে অর্চি) সবসময়ই রাজপরিবারের ভালবাসা নিয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সিবিএস টেলিভিশনে ওপরা উইনফ্রিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপরিবারে ওপর বর্ণবাদের অভিযোগ আনেন মেগান।
অর্চি যখন গর্ভে আসার পর তার গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে তা নিয়ে নাকি উদ্বেগে ছিলেন রাজ পরিবারের অনেক সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে মেগান এতোই অসহায় বোধ করছিলেন যে, তিনি আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারও ভেবেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, আমি যখন অন্তঃসত্ত্বা, আমার দিনগুলো একই রকম ছিল, বারবার ওই কথাগুলো ঘুরেফিরে আসছিল—‘তুমি নিরাপত্তা পাবে না, কোনো খেতাবও পাবে না’। আর যখন ওর জন্ম হবে, ওর গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে সেসব নিয়ে তাদের আলাপ আর উদ্বেগও তো ছিলই।
তবে রাজপরিবারের কে বা কারা গায়ের রঙ নিয়ে ওই উদ্বেগের কথা বলেছিল, তা প্রকাশ করতে চাননি মেগান। প্রসঙ্গত রাজপরিবার ছেড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন মেগান ও হ্যারি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হ্যারি-মেগান দম্পতি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব আর না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্বাধীন জীবনযাপন করতে তারা রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যান।
ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদকে খাটো করতে বিএনপি মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্যকে ‘ঘৃণ্য মন্তব্য’ দাবি করেছেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে অল্প ভোটে হেরে যাওয়া এই স্বতন্ত্র প্রার্থী (একতারা প্রতীক)।
শনিবার রাত ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন তিনি।
হিরো আলম বলেন, 'আমার কথা আমাকে বিএনপি কেন দাঁড়িয়ে দিবে? তাহলে তো আমি বিএনপির সাইনবোর্ড নিয়ে ভোট করতাম। ভোটকেন্দ্রে দেখছেন বিএনপির কোন নেতা আমাকে সাহায্য করেছে। তারা কি মাঠে আমার পাশে ছিল? ছিলনা। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছি। আমাকে কিন্তু বিএনপি ভোটে দাঁড় করিয়ে দেয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'ওবায়দুল কাদের বলেছেন হিরো আলম জিরো হয়েছেন। এটা তিনি ভুল বলেছেন। হিরোকে কেউ কোনদিন জিরো বানাতে পারে না। হিরো হিরোই থাকে। কারণ আমাকে জিরো কেউ বানাতে পারেনি, পারবেও না। হিরোকে যারা জিরো বানাতে এসেছে তারাই জিরো হয়েছে।'
বিএনপির কাঁধে ভর করে হিরো আলম এসেছেনে এ কথাও ওবায়দুল কাদেরের ভুল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, হিরো আলম কারো কাঁধে ভর করে চলে না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলেন, 'এই সরকার অসহায় হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা। কিন্তু হিরো আলম অসহায় হয়েছে।'
হিরো আলম বলেন, 'আমার যে ভোট, ভোটের ফলাফল যে কেড়ে নেওয়া হল সেই বিচার আমি কার কাছে দিবো? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি বিচার দিলাম, আমার ভোট সুষ্ঠুভাবে হলো কিন্তু আমার ভোটের ফলাফল সুষ্ঠুমতো দেওয়া হলো না কেন।'
তিনি বলেন,'অনেকে বলছেন, পার্লামেন্টকে ছোট করা হবে, হিরো আলম নির্বাচন করলে...। তাহলে পার্লামেন্টে যেতে হলে কিছু আইন করতে হবে। যার যোগ্যতা নেই সে যেতে পারবে না। যার লেখাপড়া নেই সে সংসদে যেতে পারবে না।'
তিনি বলেন, 'আর একটা বিষয়ে আইন করছেন। যারা ভোট করবে স্বতন্ত্রভাবে তাদের ১ শতাংশ ভোটার তালিকা লাগবে। যদি তাই হয়, তাহলে দলীয়ভাবে যারা করবে তাদের ১ শতাংশ লাগে না কেন? আইন সবার জন্য সমান। তাহলে আইন চেঞ্জ করতে হবে। যারা দলীয়ভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন, তাদের সবার ১ শতাংশ ভোটার তালিকা দিতে হবে। না হলে ১ শতাংশ তুলে দিতে হবে।'
লাইভে হিরো আলম সবার উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি হিরো আলম চ্যালেঞ্জ করছি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। প্রতি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা দেন। বুথে সিসি ক্রামেরা দেন। ইভিএম দিবেন না। কারণ ইভিএম হলো চোর। বাইরের দেশে ইভিএম ডাস্টবিনে ফেলে দিছে। সেটা আমাদের দেশ কুড়িয়ে নিয়ে এসে ভোট করছে। এখানেও কারচুপি হয়। ইভিএমের টিপি মারলে একটায় যায় আরেকটায়।’
লাইভের শেষের দিকে তিনি বলেন, ‘আমি হিরো আলম কোনো দলের সাথে জড়িত না। না বিএনপি, না আওয়ামী লীগ, না অন্য কোনো দল। তাই আপনারা আমাকে নিয়ে কোনো মাখামাখি করবেন না। আপনারা একজন আরেকজনকে দোষ দিবেন না আমাকে নিয়ে।’ সূত্র: সমকাল