a
ফাইল ছবি
রাশিয়ায় সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রুশ কর্তৃপক্ষ বিদেশি এবং সে দেশের স্বাধীন গণমাধ্যমে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। শুক্রবার রাশিয়ার সংসদে ‘ভুয়া ও মিথ্যা’ খবর ছড়ালে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করে।
এমন আইন পাসের পর বিবিসি নিউজ রাশিয়ায় তাদের সকল সাংবাদিক এবং সহযোগী কর্মীদের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করে। সম্প্রচার বন্ধের পর রাশিয়ায় বিবিসির ওয়েবসাইটে আর প্রবেশ করা যাচ্ছে না। সূত্র: যুগান্তর
সম্প্রতি ভারতের আগ্রার একটি ছবি সবার চোখে পানি এনে দিয়েছে। হঠাৎ করেই রেনু সিংঘালের স্বামীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত নিজের মুখ দিয়ে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করেন স্বামীকে বাঁচাতে। কিন্তু ততক্ষণে না ফেরার দেশে তার স্বামী রবি সিংঘাল চলে যান।
আগ্রার একটি হাসপাতালের বাইরে অটোর মধ্যেই মৃত্যু হয় রবি সিংঘালের। যেন তখন বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছিলো রেনুর স্বামী হারানোর দুঃখে।স্বামীর দম বন্ধ হয়ে আসছিল চোখের সামনে, নিঃশ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল। এভাবে স্বামীকে মৃত্যুর মুখে দেখে রেনু সহ্য করতে পারছিলেন না। কোনোভাবে তিনি স্বামীকে বাঁচাতে চাইছিলেন। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মুখ দিয়ে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টাও করেন স্বামীকে। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা কোনো কাজেই লাগেনি। রবিকেবাঁচানো যায়নি।
স্বামীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রেনু একটি অটোতে করে রবিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। তারা সরকারি ওই হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরপরই খারাপ হতে থাকে রবির অবস্থা। রেনু আপ্রাণ চেষ্টা করেন যেন হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায় রবিকে। যখন দেখলেন কিছুতেই শ্বাস নিতে পারছেন না রবি; তখন তিনি মুখ দিয়ে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন স্বামীর মুখে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি বাঁচাতে পারেননি রবিকে।
স্বামীকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রেনুর এ আপ্রাণ প্রচেষ্টার ছবি দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভারতে দ্বিতীয় দফায় মহামারি করোনায় কতটা নাজুক অবস্থায় ভারত এ ঘটনায় তা ফুটে উঠছে।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক আজ আবারও শুরু হয়েছে। বৈঠকের আলোচ্যসূচি নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন।
আজ বুধবার (২ জুলাই) বেলা ১১টা ৮ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই বৈঠকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এ ছাড়া কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. আইয়ুব মিয়াও উপস্থিত রয়েছেন।
সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করছে ঐকমত্য কমিশন। এই পর্বে মৌলিক সংস্কারের ২০টির মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে ৯টি বিষয়ে। ঐকমত্য হয়েছে মাত্র দুটি বিষয়ে। আর কিছু ক্ষেত্রে আংশিক ঐকমত্য হয়েছে। তবে কোনো বিষয় এখনো আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন, বিরোধী দল থেকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল (এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন) এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি। এর মধ্যে এনসিসির পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি’ গঠনের নতুন প্রস্তাব আনা হয়।
এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৭০ অনুচ্ছেদ ও বিরোধী দলগুলোকে আসনের অনুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন—এমন প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মোটামুটি একমত হলেও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপি বলেছে, সংবিধানে এনসিসি বা এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের বিধান রাখা হবে না। এই শর্ত পূরণ হলে তারা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকালের বিষয়টি মেনে নেবে।
এ ছাড়া নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রক্রিয়া, স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি, জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন ইত্যাদি বিষয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।
এর আগে গত ২৯ জুনের বৈঠকের শুরুতে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকীতে (১৬ জুলাই) সবাই মিলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব। কিন্তু বাস্তবে সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। এ বিষয়ে আমাদের এখন খানিকটা শঙ্কাও রয়েছে।’
সূত্র: ইউএনবি।