a খামেনি সতর্ক করলেন এরদোগানকে
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

খামেনি সতর্ক করলেন এরদোগানকে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২, ০৬:০৯
খামেনি সতর্ক করলেন এরদোগানকে

ফাইল ছবি

সিরিয়ার নতুন করে সেনা অভিযান না চালাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানকে পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

খামেনি বলেছেন, সিরিয়ার তুরস্কের নতুন সেনা অভিযান সিরিয়া-তুরস্কসহ ওই অঞ্চলের ক্ষতি সাধন করতে পারে। এসময় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তুরস্ককে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছন খামেনি। তিনি দাবি করেন, তুরস্ক সিরিয়ায় নতুন করে সেনা অভিযান শুরু করলে সন্ত্রাসীরাই তার ফায়দা হাসিল করবে।

সিরিয়ায় চলমান সঙ্কট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে বলেই মনে করেন খামেনি। উল্লেখ্য, এরদোগান দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়দের সহায়তাই ওই অঞ্চলগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

কিছুদিন আগে এরদোগান ঘোষণা দিয়েঠিলেন, তুরস্ক সীমান্তবর্তী সিরিয়ার ৩০ কিলোমিটার জায়গা নিরাপদ করে তুলতে আবারও ওই অঞ্চলগুলোতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

তাইওয়ান নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে রাশিয়ার অবস্থান: সের্গেই লাভরভ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০২২, ০৭:৫৫
তাইওয়ান নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে রাশিয়ার অবস্থান: সের্গেই লাভরভ

ফাইল ছবি: সের্গেই লাভরভ

তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সম্ভাব্য সফর নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দীর্ঘ এক টেলিফোনে আলোচনা হয়। চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেছেন, রাশিয়া আশা করে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যেটি তাইওয়ানের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে দেবে।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শেষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক চীন নীতিতে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। যুক্তরাষ্ট্রও মুখে ঠিক একই কথা বলে। কিন্তু আপনারা জানেন তাদের মুখের কথার সঙ্গে কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। চীনের সার্বভৌমতা রক্ষার নীতিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি কোনো বিরক্তকর, কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না যেটি এ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে দেবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এনবিসি টিভি জানিয়েছে, হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি শুক্রবার তার এশিয়া সফর শুরু করবেন। কিন্তু এ সফরে তার তাইওয়ানে যাওয়ার নিয়ে কোন ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। উ্ল্লেখ্য, ন্যান্সি পেলোসি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় ক্ষমতাশীল ব্যক্তি। সূত্র: টাস নিউজ (রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা)

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৯:৩৭
জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ছবি সংগৃহীত

 

বিপ্লব একটি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যে কোনো সময় ঘটতে পারে, যদি জনগণ তা চায়। ইতিহাস জুড়ে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নানা সময়ে বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছি। ফরাসি বিপ্লবকে সব বিপ্লবের জননী হিসেবে ধরা হয়।  

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছি, তবে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য ইরানি জনগণের সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি। বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই ইরানি সমাজ অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে প্রকৃত রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য লড়াই করছে।  

বাংলাদেশের জন্মও ছিল ১৯৭১ সালের বিপ্লবের ফল, কিন্তু আমরা এখনও প্রকৃত জাতীয় চেতনার সন্ধান পাইনি এবং জাতি বিভক্ত রয়ে গেছে। গত পাঁচ দশকেও আমরা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি, বরং প্রতিবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি।  

আমরা কখনোই একটি স্থিতিশীল সরকার পাইনি এবং সর্বদা কোনো না কোনো সংকটের সম্মুখীন হয়েছি। এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ধারা দেখেছি, কিন্তু এটি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের বিশ্বাসঘাতকতায় শেষ হয়। তারা একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনে।  

ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।  

পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা একজন স্বৈরশাসকে পরিণত হন এবং ভারতের সরাসরি সহায়তায় ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার হাতে বন্দী হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে শেষ হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতের আশ্রয় নেন।  

এই আন্দোলন শুরুতে ছাত্রদের নেতৃত্বে হলেও, পরে তা গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শত শত নিরীহ মানুষের জীবন উৎসর্গ এবং কয়েক হাজার মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব ও আধিপত্যের রাজনীতির অবসান ঘটে।  

মানুষ মুক্তি পায় এবং বিপ্লবীদের উদ্যোগে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। তবে বিপ্লবী বা জাতীয় সরকার গঠন না করাটা ছিল বড় ভুল।  

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহুমুখী অভ্যন্তরীণ সমস্যার সম্মুখীন হয়, পাশাপাশি ভারতের হুমকি মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু তারা তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সরকারকে ধীর এবং অনিশ্চিত মনে হয়েছে।  

এদিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়। বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও জামায়াত ভিন্ন মত প্রকাশ করে।  

রাষ্ট্রপতির অপসারণসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দল পৃথক অবস্থান নেয়। ছাত্রনেতারাও একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করে।  

গুঞ্জন আছে, জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে বিএনপির পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট গঠন করতে পারে। এটি বিপ্লব পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।  

এই ক্রান্তিকালে বিএনপি ও জামায়াতের ঐক্য অপরিহার্য হলেও তারা কেবল ক্ষমতার জন্য আলাদা পথে হাঁটছে, জাতির প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে। উভয় দল পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে এবং জাতিকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।  

জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির বিভক্তি এ সময়ে ভারতকে নতুন রূপে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে, যা কেউ ঠেকাতে পারবে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে যে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শত্রুদের হুমকি বাড়বে।  

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যই ভবিষ্যতের সংকট সামাল দেওয়ার একমাত্র পথ।  

ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা রেখে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা এখন একমাত্র বিকল্প। রাষ্ট্রপতিকে এমন একজনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা দরকার, যিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য।  

সব প্রক্রিয়া বিপ্লবের সকল অংশগ্রহণকারীদের সাথে আলোচনা করে সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।  

ছাত্রনেতাদের উচিত দেশের সিনিয়র নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে, যা নিঃসন্দেহে ভালো সিদ্ধান্ত, তবে তাদের রাজনীতি শেখার ধৈর্য থাকতে হবে।  

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই এবং এটি চর্চার মাধ্যমে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও পরিপক্কতা প্রয়োজন, যা তরুণদের এখনও নেই। নেতৃত্ব রাতারাতি গড়ে ওঠে না; সময় লাগে।  

জাতি ও সরকার সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ তরুণদের হাতে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়; তাদের সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। তারা জাতির জন্য অসাধারণ কাজ করেছে, জাতি সময় মতো তাদের পুরস্কৃত করবে।  

এটি আল্লাহর দেওয়া একটি সুযোগ এবং আমাদের উচিত এটিকে উপেক্ষা না করা। বিপ্লব পরবর্তী রাজনীতিতে যে কোনো তাড়াহুড়ো বা ভুল সিদ্ধান্ত জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিজয়ের সাফল্য নির্ভর করছে জাতীয় ঐক্যের উপর।  

 

লেখক: প্রফেসর ড. এসকে আকরাম আলী

সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক