a
ছবি: ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু
রাজধানীর পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে করা একটি মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একইসঙ্গে তাদের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।
সোমবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত উক্ত আদেশ প্রদান করেন। এইদিন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। আদালতে পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে রিমান্ড নামঞ্জুর করে দুইদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমোদন দেন। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
বিএনপির নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এর আগে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর দুই থানায় দায়ের করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।
আজ বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিনের আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী।
অপরপক্ষে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশিদ।
প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এমন একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে নিপুণ রায়কে রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকা থেকে গত ২৮ মার্চ আটক করা হয়। এরপর নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়।
পরবর্তীতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় বে-আইনি সমাবেশ, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা অপর আরেক মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়।
আল্লাহর ওপর ঈমান আনার অন্যতম দিক হলো তার প্রতিটি আদেশ-নির্দেশের ওপর বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি মহাশক্তির অধিকারী। তাঁর ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীর সব কিছু তাঁর অধীন। তাই নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য, বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষের তাঁর কাছে যাওয়ার বিকল্প নেই। তিনি মহান আল্লাহ, পরম করুণাময়। তাঁর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করলে তিনি খুশি হন।
যেকোনো বান্দা তাঁকে ডাকলে তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেন। আর যারা তাঁর কাছে দোয়া করেন না, তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের রব (আল্লাহ) বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮২৯)
এ জন্য পবিত্র রমজান মাসে প্রতিটি মুমিনের উচিত মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। বিশেষ করে বর্তমানে যেহেতু গোটা বিশ্বকে বিপদাপদ ঘিরে রেখেছে, তাই এখন দোয়ার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে দোয়া করা উচিত, কারণ মহান আল্লাহ ইফতারের সময় বান্দার দোয়া কবুল করেন।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. রোজাদার যখন ইফতার করে, ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, ৩. মজলুমের দোয়া। মজলুম ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ মেঘমালার ওপর উঠিয়ে নেন এবং এ জন্য আসমানের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৯৮)
এবং এই মাসের প্রতিটি রাতেও আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ অনুগ্রহে অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ...আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী, থেমে যাও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৭৯৪)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান এলেই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাহাবাদের বলতেন, ‘তোমাদের কাছে এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৪৪)
তাই রমজানের প্রতিটি রাতে বেশি বেশি দোয়া-ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করা যেতে পারে। এবং সব প্রয়োজন, সমস্যার কথাগুলো মহান আল্লাহর কাছে বলা যেতে পারে। তা ছাড়া রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের পরিপূর্ণ বরকত অর্জনের জন্য সুযোগ পেলেই মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়া ইবাদতের মূল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৭১)
মহান আল্লাহ সবাইকে পবিত্র রমজান মাসে বেশি বেশি দোয়ায় মশগুল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
---মাইমুনা আক্তার/সূত্র:বিডিপ্রতিদিন