a জবিতে স্প্যানিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালু হচ্ছে
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মাঘ ১৪৩২, ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

জবিতে স্প্যানিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালু হচ্ছে


সিয়াম, জবি প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
রবিবার, ২২ মে, ২০২২, ১০:২৭
জবিতে স্প্যানিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালু হচ্ছে

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

২২ মে ২০২২ (রবিবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এর সাথে স্পেন দূতাবাসের উপপ্রধান এমিলিয়া সেলেমিন রেদোন্দো সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এসময় আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক জনাব খন্দকার মোন্তাসির হাসান সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ,  পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), স্পেন দূতাবাসের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পেনিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স অন্তর্ভূক্তিকরন বিষয়ে স্পেন দূতাবাসের সাথে আজ আলোচনা হয়। এর আগে গত (৩ নভেম্বর ২০২১-বুধবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এর সাথে স্পেন দূতাবাসের উপপ্রধান এমিলিয়া সেলেমিন রেদোন্দো সৌজন্য সাক্ষাতে করেন। তখনি আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পেনিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স অন্তর্ভূক্তিকরন বিষয়ে স্পেন দূতাবাসের সাথে প্রাথমিক আলোচনা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড.মোস্তফা কামাল জানান, আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট (আইএমএল) এ আজকে স্পেনিশ ভাষা চালু করার বিষয়ে স্পেন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সাথে মিটিং হয়েছে। তাদের একদল প্রতিনিধি আমাদের এখানে শিক্ষক হিসেবে থাকবেন এবং শিক্ষার্থীদের স্পেনিশ ভাষার ক্লাস নিবেন।

আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক খন্দকার মোন্তাসির হাসানের কাছে প্রতিনিধি দলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পেনিশ ভাষার কোর্স চালু করতে আগ্রহী। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ তারা পছন্দ করেছেন। জানুয়ারি থেকে স্প্যানিশ ল্যাংগুয়েজ কোর্স চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এমিলিয়া সেলেমিন রেদোন্দো  ডরমেটরি ও আই.এম.এল (জবি) ঘুরে দেখে দ্রুত স্প্যানিশ কোর্স চালুর জন্য সকল সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

খন্দকার মোন্তাসির হাসান আরও বলেন, যেসব বিদেশি ভাষার কোর্স গুলো আমরা চালু করব তা যেন সে ভাষার নেটিভ শিক্ষক দ্বারা নিতে পারি। তাহলে আমদের শিক্ষার্থীরা কোর্সে আগ্রহ পাবে। দূতাবাসের সহায়তায় আমরা যদি স্হায়ী ফ্যাকাল্টি পাই তবে অদূর ভবিষ্যতে স্প্যানিশ ল্যাংগুয়েজে অনার্স চালু করার পরিকল্পনা আছে।

আই.এম.এল এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রতিভা রানী কর্মকার মনে করেন, এর মাধ্যমে নতুন একটি ভাষা শেখার দ্বার উন্মোচন হবে যেখানে আই.এল.এল সহ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টগুলো এর সুবিধা পাবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল ইসলাম রাকিব বলেন, এটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব ভালো একটি উদ্যোগ। স্পেনিশ, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন(চায়নিজ), জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স থাকাটা সময়ের দাবী। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও স্প্যানিশ শেখার প্রতি খুবই আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ডিগ্রির পাশাপাশি যাতে অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে ভিন্ন কিছু শিখতে ও জানতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। দেরীতে হলেও স্পেনিশ ভাষার কোর্স চালু হচ্ছে জেনে ভালো লাগলো।

আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিসাত রহমান জানান,আসলে আমাদের বিভাগে বিদেশি একটি ভাষার কোর্স চালু হচ্ছে আমরা এতে আনন্দিত। আশা করি এর মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আরো উন্নত হবে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

পুরান ঢাকায় জবি শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে মানববন্ধন


অমৃত রায়, জবি প্রতিনিধি:
বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১, ০৭:১৫
পুরান ঢাকায় জবি শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ফাইল ছবি

পুরান ঢাকায় কলতাবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত রবিবার (২৭ জুন) পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান লকডাউনের কারণে প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে বাসায় ফিরে আসার  সময় কবি নজরুল কলেজের পাশে ইউনিস্টন গলিতে প্রবেশ করলে নির্জন রাস্তার সুযোগে আমাকে আক্রমণ করে একটি ছেলে। এ সময় আমার  চিৎকারে মহানগর মহিলা কলেজের দিকে দৌড়ে পালায় যুবক। আশপাশে মানুষ থাকলেও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে  আজ(২৯ জুন) বেলা ১২ টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ যৌথ মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তাদের  ক্ষোভ প্রকাশ  করেন এবং দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবী করেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলে লাঞ্চিত শিক্ষার্থীর বিচারের জন্য প্রক্টরকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সুত্রাপুর থানার এস আই হাফিজ বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয় নি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী পরাগ হোসেন বলেন-"বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করা হয়েছে, কিন্তু সুত্রাপুর থানার এস আই হাফিজ অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে এবং বিষয়টিকে একদমইই গুরুত্ব দেননি।এস আই হাফিজ বলেন ধর্ষন তো করা হয় নি! পরাগ আরো বলেন আমরা থানা থেকে তেমন কোন সাহায্য পাই নি।"

এছাড়াও মানববন্ধনে ঘটনাস্থলের থানা থেকে সিসি টিভির ফুটেজ দেরিতে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। 

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল আসামিদের গ্রেফতারের অগ্রগতি সম্পর্কে মুঠোফোনে জানান, সন্দেহজনক ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে তাদের সামনে হাজির করা হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাদের কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। আজ আমি নিজে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিকালে থানায় যাব সেখানে একশত-এর ও বেশি কিশোর গ্যাং অপরাধচক্রে জড়িত ও অন্যান্য আসামিদের  তালিকা দেখানো হবে তাদের মধ্যে কেউ আছে কি না তা চিহ্নিত করা হবে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগ্রহ করা হয়েছ্ব। পুলিশ আশাবাদী যেকোনো উপায়ে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদা তৎপর আছি।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনা পদত্যাগে ঘটে যাওয়া আদ্যপান্ত ঘটনা তুলে ধরলেন সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বুধবার, ০৭ আগষ্ট, ২০২৪, ০৯:৫২
শেখ হাসিনা পদত্যাগে ঘটে যাওয়া আদ্যপান্ত ঘটনা তুলে ধরলেন সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা

ছবি সংগৃহীত: শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়া ও গণভবনে ছাত্র/জনতার আগমন

শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও গত কয়েকদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনা একজন সেনা কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে তুলে ধরেছেন। তার অনুরোধেই পোস্টটি হুহহু নিচে তুলে ধরা হলো-


সমগ্র বাংলাদেশী মানুষদের বিজয়ের শুভেচ্ছা!
আমি একজন সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিটের কর্মকর্তা।  আমি আমার প্রকৃ্ত আইন্ডেন্টি হাইড করছি যাতে করে ভবিষ্যতে আমার বিরুদ্ধে কোনো সম্ভাব্য স্টেপ না গ্রহণ করা হয়।।

গত কয়েক সপ্তাহ যাবত আপনারা সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডে ব্যাথিত হয়েছেন বলে আমি জানি। তবে আপনি কি জানেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে খোদ সেনাবাহিনীই বড় ভূমিকা রেখেছিলো। এখন বলি ভিতরে কিছু ঘটনা, গত কয়েকদিন যাবত আন্দোলন যখন বেগবান হয় তখন থেকেই সরকার মহলের উপরের কিছু মন্ত্রীর ভিতরে ভয় ঢুকে যায় এবং তারাও নড়েচড়ে বসে। এতে করে শেখ হাসিনা যখন কেউকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তখন তিনি সেনাবাহিনী নামিয়ে কারফিউ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ভেবেছেন কারফিউ দিলে হয়তো আন্দোলন থামবে। কিন্তু থামেনি উলটো মানুষ প্রচন্ড রেগে গিয়েছিলো। সেনাবাহিনীর ভিতরের বিভিন্ন ব্রিগেডে ক্ষোভ বেড়ে যায় সরকারের প্রতি। দেশের মানুষের বিপক্ষে সেনাবাহিনীকে দাঁড় করানোই সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো শেখ হাসিনার। এটি তার কয়েকটি ভুলের একটি। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্রিগেডে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যখন বেড়ে যাচ্ছিলো তখনই সেনাপ্রধান সাহেব মতবিনিময় সভার ডাক দিয়েছিলেন। সেখানে সরকার পক্ষের গুটি কয়েকবাদে বাকি সবাই শেখ হাসিনার বিপক্ষে দাঁড়ান। সরকার পক্ষে দাঁড়ানো কয়েকজনের একজন হলো ব্রিগেডিয়ার ইমরান হামিদ। আগে আদমজী স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। মতবিনিময় সভায় যখন সেনাপ্রধান সাহেব আঁচ করতে পেরেছেন যে সেনাবাহিনীকে যদি দেশের বিরুদ্ধে দাঁড় করার চেষ্টা আরো বেড়ে যায় তবে যেকোনো মুহূর্তে মিলিটারির ক্যুর সম্ভাবনা আছে। তাই তিনি ওইদিন থেকে আন্দলোনকারীদের উপর গুলি চালানো নিষেধ করেন পাশাপাশি আইজিপির সাথেও কথা বলেন কারন পুলিশেও প্রায় একই অবস্থা চলছিলো। তখন আইজিপি এবং সেনাপ্রধান সাহেব একমত হলেন যে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী অর্থাৎ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্যদের দেশের সার্বিক অবস্থা বোঝানো হবে, যাতে করে তারা ক্ষমতা-ত্যাগ করে।  এই নিয়ে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ এবং অতি গোপনীয় ইউনিট তৈরি করা হয় যার সাথে আমি জড়িত। ওই ইউনিটের অফিসাররা এবং আমি আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টাদের সাথে বহুবার আলোচনা করি তাতে কয়েকজন সায় দিয়েছেন যে তারা শেখ হাসিনাকে বোঝাবেন পদত্যাগের জন্য। কয়েকজন সদস্য উলটো আতংকিত হয়ে দেশ ত্যাগ করে ফেলেন। তারা ভেবেছেন সেনাবাহিনী তাদের আটক করবে মার্শাল ল' জারি করবে। আসলে এমনটা আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো না।

আমরা চেয়েছি গণতান্ত্রিক উপায় সরকার পরিবর্তন হবে। প্রধান বিচারপতির রায়ের ভিত্তিতে। এরপর শেখ হাসিনাকে ওই সভাপতি মন্ডলীর বিভিন্ন সদস্য এবং উপদেষ্টা বোঝাতে চেষ্টা করেন পদত্যাগের জন্য। এর মধ্যে একজন হলেন সালমান এফ রহমান। মন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যাক্তিও তাকে বুঝিয়েছেন। তবে এটা সত্য যে, যখন উনাকে সবাইকে পদত্যাগের জন্য বলেতেছিলো তিনি তখনই ভেঙ্গে পড়েছিলেন। কেননা তিনি কাউকে পাশে পাচ্ছেন না এবং বিশ্বাসও করতে পারছেন তখন আমরা শেখ হাসিনার কাছে যাই এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। যখন তিনি শুনতেছিলেন না তখন আমরা উনার বোন শেখ রেহনার সাথে যোগাযোগ করি। উনাকে দেশে আসতে বলি। আমাদের বিশ্বাস ছিলো অন্তত একমাত্র বোনকে তিনি বিশ্বাস করবেন। উনার বোন আমাদের কথায় ৪ তারিখ সকালে বাংলাদেশে আসেন। শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনা ৪ তারিখ অর্থাৎ রবিবার থেকেই নিজেদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা করেন।

আমরা শেখ হাসিনার প্রোটোকল অফিসারদের (যারা সেনাবাহিনীতে কর্মরত) বলে দিয়েছিলাম, যেন তাদের গতিবিধির উপর ২৪ ঘন্টা নজর রাখে। আমাদের সূত্র জানিয়েছে যে, শেখ হাসিনা তখনও মানতে নারাজ ছিলেন। উনি ক্ষমতা সেনাবাহিনীকে দিতে চাচ্ছিলেন না। তিনি উলটো কারফিউ কড়াকড়ি করতে সেনাবাহিনীর উপর জোর দেন। যখন দেখছি কাজ হচ্ছে না তখন আমরা সেনাপ্রধান সাহেবকে জানাই। পরের দিন,  আইজিপি ও তিন বাহিনীর প্রধান নিজেই অর্থাৎ সোমবার সকালে শেখ হাসিনার বাসা গণভবনে যান।সেখানে সালমান সাহেবও উপস্থিত ছিলেন।  শেখ হাসিনা তার বিভিন্ন ক্ষোভ ঝাড়েন সেনাবাহিনীর উপর। পুলিশদেরকে বাহবা দেন। কিন্তু আইজিপি সাহেব শেখ হাসিনাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে দেশের পরিস্থিতি একদম নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। তিনি তখন দেশে জরুরী অবস্থা জারি করতে নির্দেশ দিলে সেনাপ্রধান তা মানতে নারাজ ছিলেন। ওই সভা ছিলো শেখ হাসিনার ইতিহাসের প্রথম সভা যেখানে কেউই তার হুকুম পালন করতে রাজি হোননি। শেখ হাসিনা তখন বুঝে যান যে, তার পক্ষে এখন আর কেউ নেই। তিনি তখন পাশের রুমে শেখ রেহানার কাছে যান , তার সাথে আলোচনা করেন এবং বিদেশ থেকে ভিডিও কলে পুত্রসন্তান জয়ের সাথে আলোচনা করেন। জয় নিজের মাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে বলেন যতদ্রুত সম্ভব।

বলে রাখা ভালো, আমরা শেখ রেহানার মাধ্যমে জয়ের সাথেও আলাপ করার চেষ্টা করেছিলাম। শেখ হাসিনা তখন ফের সভায় এসে সেনাপ্রধানের কাছে পদত্যাগের জন্য দুইদিন সময় চান যাতে করে তার সহযোগীরা দেশ ছাড়তে পারে এবং একটি জাতির উদ্দেশ্যে রেকর্ডেড ভাষণ দিতে চান পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের শর্ত দেন। তখন সেনাপ্রধান নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে রাজি হোন কিন্তু বাকি দুইটিতে রাজি ছিলেন না। কেননা ততক্ষণে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানুষ জড় হয়ে গেছেন এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে গণভবনে ঢুকে যাবেন। সেনাপ্রধানসহ তিনবাহিনীর প্রধান শেখ হাসিনাকে  আশ্বস্ত করেন যে তারা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নিরাপদে ভারতে পাঠিয়ে দিবেন। শেখ হাসিনা হতাশ হন কিন্তু রাজি হয়ে যান। তখন আমি এবং আমার ইউনিট আমাদের সবচেয়ে পরিশ্রমী একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে খুব কম সময়ে। তখন বাজে ১২.৩০ মিনিট। সময় ছিলো মাত্র ৪৫ মিনিট। এক ঘন্টাও না! আমরা প্রথমে  হেলিকপ্টারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা, শেখ রেহনা এবং সালমান সাহেবকে বঙ্গভবনে নিয়ে যাই। সেখানে প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে উনাকে নিয়ে কুর্মিটোলা এয়ারব্যাসে চলে যাই। এর মাঝখানে ভারতের সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করি যাতে করে তারা শেখ হাসিনাকে  গ্রহন করে। ক্লিয়ারেন্স চাই। তারা সম্মতি জানায়। তখন তারা শেখ হাসিনাকে ভারতের আগরতলায় পাঠাতে বললে আমরা কুর্মিটোলা এয়ারব্যাস থেকে ২.৩০ মিনিটে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অতি সতর্কতার শেখ হাসিনা, তার বোন, সালমান সাহেব এবং তার কিছু বিশস্ত অফিসারকে আগরতলা পাঠাই।

এর মাঝখানে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকেন। উনি রাজনীতিবিদ ও প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করেন। এর জন্য আলাদা একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। ভারতের আগরতলা থেকে থেকে বিকাল ৪.৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সি-১৩০জে উড়জাহাজ করে উনাকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বলে রাখা ভালো, এই পুরো সময়েই শেখ হাসিনা স্তব্দ, নিশ্চুপ, হতাশ এবং কাঁদো কাঁদো ভাব। মনে হচ্ছিলো তিনি এটা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। বিমানবাহিনীর বিমানটি প্রথমে দিল্লিতে নামার কথা থাকলেও পরবর্তীতে দিল্লির কাছাকাছি গাজিয়াবাদের হিন্দোন এয়ারপোর্টে অবতরণ করে ৫.৩০ মিনিটের দিকে। তবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সি-১৩০জে উড়জাহাজটি সেখানেই রাখা হয় সারাদিন। যদি পরবর্তীতে কোনো দেশে যেতে চান তবে। তখন থেকেই শেখ হাসিনার সাথে আমাদের বর্তমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তিনি যেসব অফিসার সাথে করে নিয়েছেন তারা নিয়মিত বিমানবাহিনীকে আপডেট দিচ্ছেন। আজ সকালে বিমানবাহিনী থেকে জানা হলো সি-১৩০জে বিমানটি ফিরত চলে আসবে। ইতেমধ্যে হয়তো সেটি উড্ডয়ন করে ফেলেছে।

আমরা বারবার শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি কিন্ত তার অফিসাররা আর সায় দিচ্ছেন না। তবে আপাতত শুনেছি যে তিনি লন্ডনে যেতে পারেন। এর কারন শেখ হাসিনা আর দেশীয় কেউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ইতেমধ্যে ভারত থেকে আমাদের জানানো হচ্ছে যে সেখানের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোয় সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করছে।

আমার এই সব কিছু বলার কারন একটাই যে আপনারা বিভিন্ন মানুষ যারা অনলাইনে গুজব রটাচ্ছেন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সত্যটা জানুন। সেনাবাহিনী সবসময় দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। সেটা আগামী যেই সরকারই আসুক। আমাদের নীতি একটাই থাকবে সেটা হলো দেশের মানুষদের সুরক্ষা। আপনাদের কেউ কেউ দাবি করছেন যে সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে  দেশ থেকে সরিয়ে দিয়েছে ইচ্ছা করে। আসলে ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃত না, আমাদের প্ল্যানে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়ার কথাও ছিলো না। উনি শর্ত দাবি করেছেন নিরাপত্তার জন্য। উনাকে নিরাপত্তা দিলে, উনি পদত্যাগ করবেন। তাই আমরাও সেটি মেনে নিয়েছি।

ইতেমধ্যে আমাদের বিভিন্ন ইউনিট তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়াগায় মোতায়েনের জন্য। আপনারা আবারও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন বলে আশা করছি। কিন্তু সব অতি স্বল্প সময়ে হওয়ার কারনে সেনাবাহিনীর অরগানাইজড হতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি।

গতকালের রাতে সেনাবাহিনীর উপর গুলির যে আতংক সেই প্রসঙ্গে,
আমরা সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবরটি পেয়েছি। পুলিশ গতকাল আতঙ্কিত হয়ে সেনাসদস্যদের উপর গুলি চালিয়েছেন। এই ব্যাপারটি তদন্ত করা হয়েছে। গতকাল হঠাত সরকার পতনের পর বিরোধীরা তাদের ১৫ বছরের ক্ষোভ একদিনেই নিয়ে ফেলছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এতে করে আপনারা বিভিন্ন মানুষদের বাসাবাড়িতে বা কার্যালয়ে হামলা করছেন। এতে বহু পুলিশ আহত ও নিহত হয়েছে। এখন পুলিশরা এজন্য আতঙ্কিত। আরো একটি কথা, আপনারা সবাই জানেন দেশে এখনো কিছু এমপি বা রাজনীতিবিদরা আটকে আছেন এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেনা দফতর থেকে এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেকেই পালাতে পারেননি।তাতে পুলিশও রয়েছে। তারা সবাই আইজিপির কাছে নিরাপত্তা চান বিকালে। আইজিপি তখন সিদ্ধান্ত নেন যে  গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ কয়েকটি ইউনিটকে রাতে ফাঁকা আওয়াজ দিতে বলেন। তারা সারা ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় ফাঁকা আওয়াজ দেওয়ার জন্য নিজেদের বহর নিয়ে বের হয় যাতে করে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে না বের হোন। তারা ফাঁকা আওয়াজ দিতে দিতে সেনানিবাসে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেয় এবং আত্মসমর্পণ করেন। এই ফাকে এম্পি-মন্ত্রী-পুলিশ কর্মকর্তারা  নিজেদের আস্তানা খুঁজে নেয়। তাই ওইসময় তারা পালাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু আফসোসেস বিষয় হচ্ছে তারা এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হোন। এইদিকে আগে থেকেই সেনাবাহিনীর তুর্কী ড্রোন দিয়ে আমরা সারা ঢাকায় নজরদারি চালাচ্ছিলাম। তাদের গতিবিধি দেখে এয়ারপোর্টে সেনাবাহিনী পাঠানো হয় এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে কেউ এমপি বা মন্ত্রী ছিলেন না।  যদিও এই কথাটি সায়ের ভাই আগেই বলে দিছেন গতকাল।

পাশাপাশি আপনাদের অনেকেরই মনে খুব উদ্বেগ জেগেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ নিয়ে। আপনাদের জানিয়ে রাখছি যে এটা নিয়ে একটুও বিচলিত হবেন না। হ্যাঁ এটা সত্য ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর কিছু সদস্য বাংলাদেশে আছেন। এটা প্রায় সবদেশেই হয় অন্যদেশের উপর নজরদারির জন্য। আমাদের সেনাবাহিনীর ডিজিএফআইও অনেক দেশে মোতায়েন রয়েছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে বাংলাদেশে যতজন র’এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট আছেন তারা সবাই সেনাবাহিনীর নজরদারিতে আছে। তাদের সেনাবাহিনী শেখ হাসিনা সরকার থাকার সময়ই আইডেন্টিফাই করে ফেলেছিলো এবং তখন থেকেই তাদের উপর নজরদারি করে আসছি অতএব এটা নিয়ে চিন্তিত হবেন না। সূত্র: ফেসবুক/ Mir Kamruzzaman Moni

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আমার ক্যাম্পাস