a
ফাইল ছবি
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক চলতি বছর (২০২২) একুশে পদক পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।
এ বছর ভাষা আন্দোলনে দুজন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে চারজন, শিল্পকলায় সাতজন, ভাষা ও সাহিত্যে দুজন, সমাজসেবায় দুজন, গবেষণায় চারজন (দলগতভাবে তিনজন) একুশে পদক পাচ্ছেন। এছাড়া সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষায় একজন করে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
একুশে পদক পাচ্ছেন যারা:
‘ভাষা আন্দোলন’ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পাচ্ছেন মোস্তফা এম এ মতিন (মরণোত্তর) ও মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল (মরণোত্তর)।
‘শিল্পকলা’য় পদক পাচ্ছেন জিনাত বরকতউল্লাহ (নৃত্য), নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর) (সংগীত), ইকবাল আহমেদ (সংগীত), মাহমুদুর রহমান বেণু (সংগীত), খালেদ মাহমুদ খান (খালেদ খান) (মরণোত্তর) (অভিনয়), আফজাল হোসেন (অভিনয়), মাসুম আজিজ (অভিনয়)।
‘মুক্তিযুদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরণোত্তর), কিউ এ বি এম রহমান, আমজাদ আলী খন্দকার পদক পাচ্ছেন।
এছাড়া ‘সাংবাদিকতা’য় এম এ মালেক, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’তে মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ একুশে পদক পাচ্ছেন।
‘সমাজসেবা’য় একুশে পদক পাচ্ছেন এস এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথে। কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ ‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে পদক পাচ্ছেন।
এছাড়া ‘গবেষণা’য় ড. মো. আবদুস সাত্তার মন্ডল এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবিষ্কারের জন্য দলগতভাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. এনামুল হক (দলনেতা), ড. সাহানাজ সুলতানা ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্যবিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ চার লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। সূত্র: ইত্তেফাক
দেশের প্রথম বিআরটির কিলোমিটারে ব্যয় ২০৮ কোটি টাকা
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা ‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট’ (বিআরটি) প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে ২০৮ কোটি টাকা। এত বেশি খরচ ধরা হলেও প্রকল্পের কাজ আট বছরেও অর্ধেক শেষ হয়নি। এখন প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়ানোর ফন্দি আঁটা হচ্ছে।
এদিকে, বিমানবন্দর এলাকায় লঞ্চিং গার্ডার ধসে পড়ায় গত রোববার থেকে ওই অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রকল্পের নির্মাণকাজের শুরু থেকে এ অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন। তারা বলছেন, কাজের এমন মন্থরগতি দেখে কচ্ছপও লজ্জা পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই বিআরটি রুট। হিসাব করে দেখা যায়, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ২০৮ কোটি টাকা।
• কাজের গতিতে কচ্ছপও লজ্জা পায়
• নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর ফন্দি
• বন্ধ বিমানবন্দর অংশের নির্মাণকাজ
• চীনা বিশেষজ্ঞদল আসছে ২৮ মার্চ
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নকশা ও স্পেসিফিকেশন জটিলতায় প্রকল্পের ব্যয় আবার সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন করতে হবে টঙ্গী-জয়দেবপুর সড়কের কারিগরি ডিজাইন। তাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে কমপক্ষে ১৬১ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে তিনজন প্রকল্প পরিচালকের একজন এ এস এম ইলিয়াস শাহ রোববার (২১ মার্চ) বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের জন্য আমরা প্রস্তাব তৈরি করছি। তা এখনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।
রাস্তাজুড়ে চলছে বিআরটি প্রকল্পের কাজ। হচ্ছে উন্নয়ন, বাড়ছে ভোগান্তি |
প্রকল্প সূত্রে আরও জানা যায়, শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকায়। ২০২০ সালে তা করা হয় চার হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের জন্য আমরা প্রস্তাব তৈরি করছি। তা এখনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি
এ এস এম ইলিয়াস শাহ, প্রকল্প পরিচালক
এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, সময়মতো প্রকল্প শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরির আগে যথাযথ সমীক্ষা না হওয়ায় এত বেশি ব্যয় ধরা হয়। এ বিষয়ে সরকার তৃতীয়পক্ষ নিয়োগ করে ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই করতে পারে।
‘আমাদের দেশে মহাসড়ক ও রেলপথ নির্মাণের ব্যয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে বেশি। এই বিআরটি প্রকল্পের কাজ বহু আগেই শেষ করা উচিত ছিল।’
বিআরটি বা বাস র্যাপিড ট্রানজিট হলো বাস চলাচলের আলাদা সড়ক। এতে বিশেষায়িত বাস চলাচল করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাস চলাচলের এই ব্যবস্থা চালু আছে। ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় ২০০৪ সালেই এই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছিল।
সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, সময়মতো প্রকল্প শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরির আগে যথাযথ সমীক্ষা না হওয়ায় এত বেশি ব্যয় ধরা হয়। এ বিষয়ে সরকার তৃতীয়পক্ষ নিয়োগ করে ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই করতে পারে
অধ্যাপক ড. সামছুল হক, বুয়েট
সর্বশেষ গত বছর জুনের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ হলেও তা হয়নি। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। ২০১৭ সালের আগে প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরুই করা হয়নি।
তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশের বেশি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
কচ্ছপগতির বিআরটি প্রকল্পে বেড়েছে যানজটের ভোগান্তি
ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিকল্পনা আরএসটিপির সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ঢাকার সড়কে এখন ট্রিপ সংখ্যা দুই কোটি ৯৮ লাখ। ২০৩৫ সালে তা হবে পাঁচ কোটি ১১ লাখ। ২০৩৫ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০৩৫ সালের মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে ছয়টি রুটে মেট্রোরেল, দুটি রুটে বিআরটি, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সুপারিশ আছে আরএসটিপিতে। ওই সুপারিশের আলোকেই দেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত বছর জুনের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ হলেও তা হয়নি। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। ২০১৭ সালের আগে প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরুই করা হয়নি
বিআরটি’র সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর রুটে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেটি করা যাচ্ছে না। এর রুট ঢাকা উড়াল সড়ক বা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঝিলমিল-নটর ডেম কলেজ ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে এখন বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর রুটে বিআরটি ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এটিই দেশের প্রথম বিআরটি ব্যবস্থা।
ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি গাজীপুর-বিমানবন্দর) ২০১২ সালের ২০ নভেম্বরে একনেকে অনুমোদিত হয়। সরকারের তিনটি সংস্থার অধীনে নির্মাণকাজ চলছে এটির। মাটির সমান্তরালে বিআরটি লেন নির্মাণ করছে সওজ অধিদফতর। উড়ালসেতু, টঙ্গী সেতু ও উড়াল লেন নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরের কাছে বিআরটি প্রকল্পের ধসে পড়া গার্ডারের অংশবিশেষ |
ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাসডিপো নির্মাণ করছে এলজিইডি। প্রকল্পের ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার হবে সড়কের সমান্তরালে। এ অংশ বাস্তবায়ন করছে সওজ অধিদফতর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চীনের গেঝুবা গ্রুপকে নির্মাণকাজের ঠিকাদার নিয়োগ দেয় সওজ অধিদফতর।
এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশের বেশি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে
নীলিমা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
১০ লেনের টঙ্গী সেতু ও উত্তরা হাউজ বিল্ডিং থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার উড়ালসড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেতু বিভাগ। এ অংশের ঠিকাদার চীনের জিয়াংসু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ। এছাড়া বাসডিপো, ড্রেন, ফুটপাত ও বাজার উন্নয়ন কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। সরকারের পাশাপাশি এডিবি, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (ডিইএফ) এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
আব্দুল্লাহপুর অংশে বিআরটি প্রকল্পের ধসে পড়া একটি পিয়ার ক্যাপ |
বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়কের মাঝামাঝি অংশে প্রকল্পের কাজ চলছে। এই অংশে বিআরটি’র ৪.৫ কিলোমিটার উড়ালপথ ও উড়ালসেতু থাকবে। এর মধ্যে ৩.৫ কিলোমিটার ছয় লেনের হবে। এক কিলোমিটার হবে দুই লেনের। বিআরটি বাসডিপোসহ বিভিন্ন স্থানে ২৫টি স্টপেজ থাকবে। বিআরটি’র নির্দিষ্ট পথে চলাচলের জন্য ১৪০টি আর্টিকুলেটেড বাস কেনা হবে।
বন্ধ বিমানবন্দর অংশের নির্মাণকাজ
ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনের সামনে লঞ্চিং গার্ডার ভেঙে পড়ার পর গত রোববার থেকে বিমানবন্দর এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের অধীন এই অংশে উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ চলছিল। সব খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে এখানে। মাসখানেক আগে কংক্রিটের রোডওয়ে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তবে গত রোববার (১৪ মার্চ) ৯ ও ১০ নম্বর খুঁটির লঞ্চিং গার্ডার ধসে পড়লে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
গত রোববার বিমানবন্দর এলাকায় গার্ডারের লাঞ্চার ধসে পড়েছিল। ওই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে সাত সদস্যের একটি দল। বিমানবন্দর ছাড়া বাকি অংশের কাজ চলছে
মো. সফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লি.
লঞ্চিং গার্ডার হলো একধরনের ক্রেন যা দিয়ে কংক্রিটের রোডওয়ে স্ল্যাব স্থাপন করা হয়। রোববার (২১ মার্চ) বিধ্বস্ত লঞ্চিং গার্ডারটি পরিদর্শনের কথা ছিল চীন থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞদলের। প্রকল্পের তিনজন পরিচালকের একজন এ এস এম ইলিয়াস শাহ এদিন বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী ২৮ মার্চ চীন থেকে ওই বিশেষজ্ঞদলটি ঢাকায় আসবে।
শিল্পীর চোখে বিআরটি প্রকল্প
বিমানবন্দরে বিআরটি প্রকল্পের লঞ্চিং গার্ডার দুর্ঘটনার আগে আব্দুল্লাহপুরে একই প্রকল্পের একটি পিয়ার ক্যাপ ধসে পড়ে। দুটি দুর্ঘটনা তদন্তে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেওয়া হয়নি।
ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত রোববার বিমানবন্দর এলাকায় গার্ডারের লাঞ্চার ধসে পড়েছিল। ওই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে সাত সদস্যের একটি দল। বিমানবন্দর ছাড়া বাকি অংশের কাজ চলছে।
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে ব্যাকমেইল করে ও হুমকি ধমকি দিয়ে এক মহিলা তাকে বিয়ের করার জন্য তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। এমনকি তার স্ত্রীসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল সেই নারী।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব অভিযোগ করেন কাউন্সিলর খোরশেদ। এ সময় তার পাশেই ছিলেন স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা। লাইভের শেষের দিকে স্ত্রীও কথা বলেন এবং রাষ্ট্রের কাছে তার স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানান।
ফেসবুক লাইভে খোরশেদ জানান, সাইদা শিউলি নামে ওই নারী ভয়ংকর চরিত্রের অধিকারী। তার সঙ্গে প্রশাসন ও উচ্চ মহলের বিভিন্ন দফতরের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের উঠাবসা। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও তিনবার বিয়ে করেছেন। ওই নারীর দুটি সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং এক মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশুনা করেন।
খোরশেদ বলেন, ‘আমি করোনার শুরু থেকেই করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়েছি ও সম্মুখে থেকে লডাই করে দাফন সৎকার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। একপর্যায়ে গত মে মাসে আমি ও আমার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হই। তখন অক্সিজেনের অভাবে আমার স্ত্রীকে একপর্যায়ে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হয়। তখন একটি সংবাদের নিচে ওই মহিলা কমেন্ট করে জানান, তিনি অক্সিজেন দিতে চান এবং আমার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার দেন। তখন থেকেই তিনি আমার সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হন এবং কথা বলা শুরু করেন।’
‘একপর্যায়ে আমি বুঝতে পারি তার মতলব ভিন্ন। আমি তাকে তখন দূরে সরাতে চেষ্টা করি এবং বোঝাই। এরপর তার ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেকেও আমি এসব ঘটনা জানাই, তখন সে আমাকে বলে তার মা হয়তো দুষ্টুমি করছে, এরকম কিছু সম্ভব নয়। কাজ হবে না বুঝে পরবর্তীতে নভেম্বর-ডিসেম্বরে তার ভগ্নিপতিকে জানাই। এতে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হন এবং আমার পেছনে উঠেপড়ে লাগেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্মানকে ভয় পাই বলেই এতদিন মুখ খুলিনি। আমি ধৈর্য ধরেছি। কারণ, আল্লাহ হয়তো একটি ফয়সালা করবেন। তবে দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় দুটি পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে এ সংক্রান্ত নিউজ হওয়ায় আমি নিজেই বিষয়টি সবার কাছে বলতে এসেছি। আমার পাশে থাকার জন্য আমি আমি সাংবাদিক, আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও প্রতিপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।’
খোরশেদ বলেন, ‘২১ জানুয়ারির পর থেকে হোয়াটস অ্যাপে, ম্যাসেঞ্জারে, টেলিফোনে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং হত্যার হুমকি জানাচ্ছেন ওই মহিলা। আমার পরিবারের সবাইকে মারাত্মক মানষিক অত্যাচার করছেন। সর্বশেষ আমার স্ত্রী ও সন্তান নকিবকে তুলে নিয়ে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেন। আমি এসব ঘটনায় শুরু থেকেই সরকারি সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং অবহিত করেছি। বিভিন্ন ঘটনা ঘটার পর পরই তাদের অবহিত করা হয়।’
তনি বলেন, ‘আমার বাড়ি একটি মরা বাড়ি হয়ে গেছে। একের পর এক লাশ দাফন করি। আবার আমার বাচ্চাদের থেকে এসব কারণে লুকিয়ে থাকতে হয়। ওদের জীবনের ভয়ে আছি আমি। আমার ছেলে মেয়ে আমার চিন্তায়, পারিবারিক অশান্তিতে অসুস্থ হয়ে গেছে। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ঘটনার কারণ কি? আমি এসব থেকে মুক্তি চাই আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষকে ব্যবহার করে তিনি আমাদের জ্বালাতন করতেন। এতদিন কষ্ট সহ্য করেছি, আর পারছি না। অনেকে লজ্জায় আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন না। আপনাদের কাছে এ ঘটনার বিচার চাই। সাংবাদিক ভাইরা লেখনি ও প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে আমাকে এ অবস্থা থেকে বাঁচান। আমি এ নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই। আমি আমার পরিবারের কাছেও ক্ষমা চাই এসব ঘটনায়।’
কাউন্সিলর খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের সচিবকে ফোন দিয়ে বলেছেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সবাইকে ঐ মহিলা হত্যা করবে। আমার সাথে তার সব কথার রেকর্ড আছে। সাংবাদিকসহ যে কেউ চাইলে আমরা এসব রেকর্ডিং দেব। আমি আমার স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই রাষ্ট্রের কাছে।’