a
ফাইল ছবি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দলীয় নেতা নূরে আলম ও আবদুর রহিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে বিএনপির যে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে তা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চাল-ডাল-তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভোলায় আমাদের ছাত্রদল নেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিম পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আমরা সারাদেশের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সারাদেশের জনগণের মধ্যে একটি অভূতপূর্ব সারা সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী, অত্যাচারী, নির্যাতনকারী সরকারের দুঃশাসনের ফলে সমগ্র দেশের মানুষ যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারই প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে এসেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেছেন এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে মানুষ বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হচ্ছে এই সরকারের বিরুদ্ধে। এতে সম্পূর্ণভাবে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চরিত্র আরও একবার উদ্ভাসিত হয়েছে। আমি সব সময় বলি, আওয়ামী লীগের বডি ক্যামিস্ট্রির মধ্যেই সন্ত্রাস আছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে বলপ্রয়োগ ছাড়া তাদের টিকে থাকার আর কোনো শক্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যে প্রতিবাদ কর্মসূচি সেটা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যেসব থানা উপজেলায় কর্মসূচি হয়নি সেগুলোতে হবে। এরমধ্যে আগামী ৩০ আগস্ট সারাদেশে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে সারাদেশে আন্তর্জাতিক দিবস পালন করবো। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করবো।
অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর আমাদের (বিএনপির) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সারাদেশে পালিত হবে। এ উপলক্ষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আলোচনা সভা হবে। ১০ সেপ্টেম্বরের পরে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি সংগৃহীত: শহীদ জিয়ার বিভিন্ন স্মৃতিময় ছবি
নিউজ ডেস্ক: রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কৌশল একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল ও নেতারা জাতির বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিছু জাতি সৌভাগ্যবান, যারা ভালো রাজনৈতিক নেতা পেয়েছে, আবার কিছু জাতি এমন নেতৃত্ব পায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলে কিছু মহান নেতা আবির্ভূত হয়েছেন, যারা সফলভাবে তাদের দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই নেতারা জাতির নিকট বিনা বিতর্কে সম্মানিত হয়েছেন।
কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। এ বিষয়ে এখনো মতানৈক্য রয়েছে এবং তীব্র বিতর্ক চলছে। শেখ মুজিবকে বাংলা জাতীয়তাবাদের নেতা হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিএনপির রাজনীতি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বিএনপির সাফল্য ও ব্যর্থতা উভয়ই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৮ সালে জন্মের পর থেকেই বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের পর দেশ এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য এক বেসামরিক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের অধীনে সামরিক শাসন চলে, যতক্ষণ না তিনি জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজ বাহিনীর হাতে নিহত হন, যা জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটায়।
জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যেখানে খালেদ মোশাররফকে ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে, মার্চ ১৯৭১-এর মতোই, জিয়াউর রহমান আবার দেশের রাজনৈতিক আকাশে উদিত হন। তিনি শুধু সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাননি, বরং জাতিকেও তার যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন। যখন দেশ এক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল, তখন তিনি একমাত্র যোগ্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং জাতির ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং তিনি সময় নষ্ট না করে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই উদ্যোগ তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতার প্রতিফলন ছিল। সে সময় দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, ফলে বিএনপির জন্ম ছিল সময়ের দাবির প্রতিফলন। আজ অনেকে বিএনপিকে "কিংস পার্টি" বলে আখ্যা দিলেও তারা সেসময়ের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভুলে যায়।
জিয়াউর রহমানের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না—গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে তাকে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে হয়। অচিরেই তিনি দেশের সামরিক আইন প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই একজন সেনা কর্মকর্তা গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক হয়ে ওঠেন এবং জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন, তা ভালোভাবেই জানার পরও তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার অনুমতি দেন। অনেকের মতে, তিনিই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রথমবার অংশগ্রহণ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন লাভ করে, যা তাকে দেশের প্রধান ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত করে। একটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কীভাবে এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেল, এটি আজও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের জন্য রহস্য। এর কারণ স্পষ্ট—২৬ মার্চ ১৯৭১-এ তার স্বাধীনতার ঘোষণার দিন থেকেই জিয়াউর রহমান এক জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্ব এবং নেতৃত্ব তাকে কিংবদন্তি সৈনিক বানায়।
তাছাড়া, মুসলিম লীগ ও ভাসানী ন্যাপের নেতাকর্মীরা, যাদের সমাজে ‘রাজাকার’ বলে চিহ্নিত করা হতো, তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে জিয়াউর রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে এবং দ্রুত grassroots পর্যায়ে দলটির ভিত্তি মজবুত করে। ফলে বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশে ‘আওয়ামী লীগ-বিরোধী’ শক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা এখনো কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব:
১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হন। দ্রুতই তিনি প্রমাণ করেন যে, তিনি এই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি গণতন্ত্রপ্রেমী এক অকুতোভয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। এর ফলে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি একমাত্র কার্যকর জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়, এবং বেগম জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অগ্রদূত হয়ে ওঠেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় এবং একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করে। তার স্বামীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের সমর্থনে, যেমন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান, মেজর জেনারেল মজিদুল হক, সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার জহিরউদ্দিন সিরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, আবদুর রহমান বিশ্বাস ও কর্নেল অলি আহমদ—তিনি তার সরকারকে সফলভাবে পরিচালনা করেন।
নেতৃত্বের ভুল ও ভারতীয় হস্তক্ষেপ:
তবে, কিছু বড় ভুলের কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে, মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে, তিনি সেনাবাহিনীর অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে অপসারণ করেন, যা সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে ফেলে। এছাড়া, জেনারেল নাসিমকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করাও ছিল একটি মারাত্মক ভুল।
এরশাদের শাসনামলে ভারত তার আধিপত্য বিস্তারের কাজ শুরু করে এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে সফল হয়। তবে, ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে ব্যর্থ হয়। খালেদা জিয়া জনপ্রিয় জনসমর্থন নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসেন, তবে তার সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের ভুল নির্বাচন এবং সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল মইন উদ্দিনের নিয়োগ, বাংলাদেশে ভারতের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেয়। এর ফলাফল ছিল শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ১৫ বছরব্যাপী এক অন্ধকার যুগ।
জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার পতন:
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা অকল্পনীয় দমন-নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তারা রাজপথ ছাড়েনি, যদিও তারা সরকার পরিবর্তনের কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। ‘জুলাই বিপ্লব’ শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে এবং ভারতের আধিপত্য চিরতরে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেয়। এই বিজয় ছিল ছাত্রদের, বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ইসলাম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।
ভবিষ্যতের করণীয়:
এখন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই বিজয়কে স্থায়ী করার সময়। বিএনপি এখন বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এবং তারা যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো গুরুতর ভুল করে, তবে তা শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।
বিএনপিকে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পথ চলতে হবে, কারণ দলে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় রয়েছে। দেশের জনগণই বিএনপির প্রকৃত শক্তি, কোনো বাইরের শক্তি নয়। বিএনপির টিকে থাকা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর।
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২’ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার এক বাণীতে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তিনি শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনি বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনি অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি সম্ভারে হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনো আনন্দ দেয়, আর কখনোবা কৃতকর্মের শিক্ষা নব উদ্যোমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের উদ্যোগে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরে বঙ্গবন্ধুর নামে স্মারক ভাস্কর্য স্থাপন, সড়ক ও পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিতে আন্তজার্তিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।
গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত সেখানে করোনাকালেও আমরা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি, এখন আমাদের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি।
পদ্মা সেতু নতুন বছরের মধ্যবর্তী সময়ে খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছি। রাজধানীতে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’- এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ অর্জন করেছি। দেশকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছি। মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। আমরা শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব।
নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে তিনি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন, ক্রান্তিকাল উত্তরণে ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হয়েছে। দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার, সকল সংকট দূরীভূত এবং সকলের জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সূত্র : বাসস