a ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা
ঢাকা রবিবার, ২৭ পৌষ ১৪৩২, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ২৯ আগষ্ট, ২০২২, ০৫:৪৬
১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দলীয় নেতা নূরে আলম ও আবদুর রহিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে বিএনপির যে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে তা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চাল-ডাল-তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভোলায় আমাদের ছাত্রদল নেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিম পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আমরা সারাদেশের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সারাদেশের জনগণের মধ্যে একটি অভূতপূর্ব সারা সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী, অত্যাচারী, নির্যাতনকারী সরকারের দুঃশাসনের ফলে সমগ্র দেশের মানুষ যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারই প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেছেন এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে মানুষ বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হচ্ছে এই সরকারের বিরুদ্ধে। এতে সম্পূর্ণভাবে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চরিত্র আরও একবার উদ্ভাসিত হয়েছে। আমি সব সময় বলি, আওয়ামী লীগের বডি ক্যামিস্ট্রির মধ্যেই সন্ত্রাস আছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে বলপ্রয়োগ ছাড়া তাদের টিকে থাকার আর কোনো শক্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে প্রতিবাদ কর্মসূচি সেটা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যেসব থানা উপজেলায় কর্মসূচি হয়নি সেগুলোতে হবে। এরমধ্যে আগামী ৩০ আগস্ট সারাদেশে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে সারাদেশে আন্তর্জাতিক দিবস পালন করবো। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করবো।

অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর আমাদের (বিএনপির) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সারাদেশে পালিত হবে। এ উপলক্ষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আলোচনা সভা হবে। ১০ সেপ্টেম্বরের পরে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।  সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই সবার প্রত্যাশা


কর্নেল(অব.) আকরাম, অধ্যাপক ও কলাম লেখক
শনিবার, ০৩ মে, ২০২৫, ১১:৫১
রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই সবার প্রত্য

ছবি সংগৃহীত

 


নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি জাতির জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং রাজনীতিবিদরাই একটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান খেলোয়াড়। কোনো কোনো সময় একটি দেশের রাজনীতি পুরোনো ধারা থেকে সরে নতুন মোড় নেয় এবং তখন জনগণ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কিছু ভালোর আশায় থাকে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ—ভালো হোক বা খারাপ—সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সেই দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও ভূমিকার উপর। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সঠিক পথে না গিয়ে ভুল পথে চলে, তবে শেষ পর্যন্ত জাতিকেই তার খেসারত দিতে হয়।

আমরা একটি জাতি হিসেবে অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছি। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল গণতন্ত্র, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আশায় কিন্তু স্বাধীনতার শুরু থেকেই তারা হতাশ হয়। আওয়ামী লীগ সরকার বিদেশি শক্তির পরামর্শে কিছু ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে।

যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকসাল গঠন করেন। শেখ মুজিবের এই পদক্ষেপ জনগণের অনুভূতি ও স্বার্থ এবং তার দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকেও উপেক্ষা করে বলেই বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই শেখ মুজিবের এই অস্বাভাবিক আচরণে অসন্তুষ্ট ছিল এবং তার পতনের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এরই মাঝে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং কয়েক হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যায়।

বাংলাদেশের রাজনীতি হঠাৎ করেই এক অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে, এবং রক্তক্ষয়ী ঘটনার মাধ্যমে শেখ মুজিবের যুগের অবসান ঘটে। এরপর খন্দকার মোশতাকের উত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়, যিনি শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তার শাসনকাল ছিল স্বল্পস্থায়ী।

আবার রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫, যখন খালেদ মোশাররফ খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজ বাহিনীর হাতে নিহত হন, কারণ দেখানো হয় তিনি ভারতের এজেন্ট। দেশের রাজনীতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, কিন্তু সিপাহি-জনতা এগিয়ে আসে এবং ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করে আনে এবং তাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনে।

এইভাবে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতা নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের ফলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়ে আসেন। ইতিহাসের সেই সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার জন্য সঠিক ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হন। তিনি বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে অসামান্য অবদান রাখেন। জিয়াউর রহমান জাতির রক্ষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে বিবেচিত হন। দেশ ও জাতি প্রকৃত অর্থে ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত হয় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজেকে সেই আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে। তিনি দেশের উন্নয়নে অনেক কাজ করলেও গণতান্ত্রিক চর্চাকে হত্যা করে স্বৈরশাসন কায়েম করেন। কিন্তু ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণজাগরণে তার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। প্রথমবারের মতো দেশে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয় এবং সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়।

কিন্তু অচিরেই আওয়ামী লীগ জামায়াত একসঙ্গে জোট করে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। এরপর বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে পদত্যাগ করে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে জামায়াতের সমর্থনে, কিন্তু আগের মতো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। জেনারেল মইন উদ্দীন বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং বাংলাদেশে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ভারতের পরামর্শে ডিসেম্বর ২০০৮ এর এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে তুলে দেন।

ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশ এক দীর্ঘ দমন-পীড়নের রাজনীতির নতুন মোড়ে প্রবেশ করে, যা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অবসান ঘটে।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাজনীতিতে নতুন এক আশাবাদী যুগে প্রবেশ করে। গত পনেরো বছর ধরে শেখ হাসিনার পুতুল সরকারের অধীনে গভীরভাবে প্রোথিত ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে উৎখাত করা সম্ভব হয়েছে এই বিপ্লবের মাধ্যমে।

জুলাই বিপ্লবকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘ সময় পর স্বৈরাচার মুক্ত হয়। এটি সম্ভব হয়েছে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে, তবে বিপ্লব-পরবর্তী রাজনীতি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচলেই আছে।

যদিও ছাত্রসমাজ বিপ্লবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, তবে বিএনপি ও জামায়াতের ত্যাগ ও অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিঃসন্দেহে ধাপে ধাপে বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতই বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।

কিন্তু কিছু জাতীয় ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতভেদ দেখে জনগণ হতাশ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংস্কার ও নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য বিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার বাসভবনে খালেদা জিয়া ও জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন এক ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

লন্ডনে সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় বলে মনে করছেন এবং এটি জামায়াতের রাজনৈতিক আন্তরিকতা সম্পর্কে জাতিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। সম্ভবত তারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি দেরিতেও হলেও বুঝতে পেরেছে।

এই দুটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য দেশের ওপর যে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হুমকি থেকে জাতিকে রক্ষা করতে পারে। উভয় দলের নেতৃত্বের উচিত জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা এবং অতীতের বিভাজন ভুলে গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত এনসিপিকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কিছু জায়গা দেয়া উচিত, তবে তাদের অতিরিক্ত উচ্চাশী হওয়া ঠিক নয়। তাদের রাজনীতি শিখতে হবে এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ইতিহাস সবসময় তাদের ত্যাগকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

জাতি প্রত্যাশা করে যে, সকল রাজনৈতিক দল পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করবে। কোনো ভুল পথে নয়, বরং সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কিউই বধ


ক্রীড়া ডেস্ক:
বুধবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৭:৩৯
অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কিউই বধ

ফাইল ছবি

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া বধের পর এবার টাইগারদের হাতে নাস্তানাবুদ হলো ব্লাক ক্যাপসরা। আজ মিরপুরে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে জিতে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করলো টাইগাররা। চতুর্থ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেই সফল হয় বাংলাদেশি বোলাররা।

মাত্র ৯৩ রানে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য লক্ষ্যটা সহজ করে দেন নাসুম-মুস্তাফিজরা। ৯৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়লেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর নাঈম শেখের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে টিম বাংলাদেশ।

সেই সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই কিউইদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টির চতুর্থ ম্যাচে ৯৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আগ্রাসী হতে গিয়ে আবারো ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন ওপেনার লিটন দাস। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬ রান। কোল ম্যাকঞ্চির বলে ফিল অ্যালেনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাকিবও। তিনি ফিরেছেন ৮ রান করে। প্যাটেলের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন এই অলরাউন্ডার।

এরপর রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন মুশফিক। এজাজ প্যাটেলের একই ওভারে এই দুই অভিজ্ঞ ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩২ রানে ৩ টপ অর্ডার ফিরে যাওয়ার পর ইনিংস মেরামতের কাজে মনোযোগ দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অন্য প্রান্তে তার সঙ্গী ছিলেন ওপেনার নাঈম শেখ। দু‌'জন মিলে দেখে-শুনে খেলতে থাকেন কিউই বোলারদের বিপক্ষে। সিঙ্গেল-ডাবলসেই দলকে এগিয়ে নিয়েছেন দু‌'জন।

তবে রান আউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হয় ভালোই খেলতে থাকা নাঈমকে। দলের হয়ে নাঈম করেন ২৯ রান। আর মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান। এছাড়া আফিফ হোসেন করেন ৬ রান। সফরকারী দলের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন এজাজ প্যাটেল। এছাড়া ১টি উইকেট নিয়েছেন কোল ম্যাকঞ্চি।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১৯.৪ ওভারে মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। ফলে সিরিজ জিততে টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯৪ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ব্ল্যাক ক্যাপরা। রানের খাতা খোলার আগেই কিউই শিবিরে আঘাত হানেন টাইগার স্পিনার নাসুম আহমেদ।

ইনিংসের শুরুতেই রাচিন রবীন্দ্রকে শূন্য রানে ফেরান এই ঘূর্ণি জাদুকর। এরপর তার হাত ধরেই দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় টিম বাংলাদেশ। এবার তার শিকার ফিন অ্যালেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজঘরে ফেরান নাসুম। অ্যালেনের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১২ রান। শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে থাকেন টম লাথাম এবং উইল ইয়ং। কিন্তু এই জুটিকে বেশিদূর যেতে দেননি মেহেদি হাসান। ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক লাথামকে। লাথামের ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ২১ রান।

তবে অন্য প্রান্তে ইয়ং টিকে থাকলেও অন্যরা উইকেটে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন। ২২ গজে আবারও স্পিন ঘুর্ণি নিয়ে আর্বিভূত হন নাসুম আহমেদ। আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কিউই ব্যাটসম্যানদের জন্য। এই স্পেলে পরপর দুই উইকেট নিয়ে খাদের কিনারে ঠেলে দেন সফরকারীদের। জাগিয়ে তোলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। তার বলে ফিরে যান হ্যানরি নিকোলস এবং গ্রান্ডহোম। নিকোলস করেন ১ রান। আর গ্রান্ডহোম শূন্য রানে ফিরে যান। মাত্র ৪ ওভার বল করে ২ মেডেন নিয়ে ১০ রানে ৪ উইকেট নেন নাসুম।

এরপর মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিনের দাপুটে বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে কিউইরা। শেষদিকে আর কোন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান পেরোতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘর। আর তাতেই মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন উইল ইয়ং। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম ৪টি, মুস্তাফিজ ৪টি উইকেট নেন।

এছাড়া সাইফউদ্দিন এবং মেহেদি নেন ১টি করে উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এছাড়া নাইম শেখ করেন ২৯ রান।

স্কোরবোর্ডঃ

নিউজিল্যান্ডঃ ৯৩/১০ (ইয়ং ৪৬, লাথাম ২১, নাসুম ১০/৪, মুস্তাফিজ ১২/৪)

বাংলাদেশঃ ৯৬/৪ ( রিয়াদ ৪৩, নাইম ২৯, প্যাটেল ৯/২ ম্যাকঞ্চি ৩৪/১)

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: নাসুম আহমেদ ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি