a
ফাইল ছবি: সাকিব আল হাসান
গত বুধবার সন্ধ্যায় দুবাইয়ের হিন্দ প্লাজায় আরাভ জুয়েলারি দোকানটি উদ্বোধন করেন সাকিব আল হাসান, অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দিঘীসহ অনেকেই। সদ্য ইংল্যান্ড সিরিজ সমাপ্তের পর দুবাইয়ে গিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আর তাকে নিয়ে চমক দেখানো আরেক খবর দেন ব্যারিস্টার সুমন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ব্যারিস্টার সুমন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দাবি করেন, সাকিব আল হাসান তাকে একটা বিষয়ে কথা বলায় মারতে এসেছিল। তিনি বিষয়টি এতোদিন কাউকে জানাননি।
ভিডিওতে সুমন বলেন, “সাকিব আল হাসান আমাদের নামী-দামী ক্রিকেটার, যাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। উনি একটা স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করার জন্য চলে গেছেন দু’বাইয়ে।
সেলিব্রেটি যারা আছেন, তাদের কেউ দাওয়াত দিলে যেতেই পারি। আমি সাকিব আল হাসানের কোন দোষ এ পর্যন্ত দেখি না। কিন্তু যখন জানতে পারলাম ডিবির পক্ষ থেকে জানিয়েছিল, ‘আপনি যার দোকান উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন সে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার আসামি। সে পলাতক অবস্থা আছে এবং ইন্টারপোলের সাহায্যে তাকে ধরে আনার চেষ্টা চলছে। তাকে মানা করার পরও সে শোনেন নাই।
ব্যারিস্টার সুমন দাবি করেন, তিনি সেলিব্রেটি হলেও তার বিষয়ে অন্যদের ন্যায় সমান তালে বিচার হওয়া দরকার দেশের প্রচলিত আইনে। সূত্র: মাছরাঙা নিউজ
ছবি সংগৃহীত
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত ১
আজ ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ ০৫৫০ ঘটিকায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার পেরাছড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এসময় ইউপিডিএফ (মূল) এর গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। এতে সেনাবাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটলে ইউপিডিএফ (মূল) এর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং বেশ কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসী আহত অবস্থায় গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে, উক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ০১ টি এ্যাসল্ট রাইফেল (এম-১৬), ০২ রাউন্ড এমজি/স্নাইপার এ্যমোনিশন, ৯০ রাউন্ড রাইফেল এ্যমোনিশন, ০১ টি ওয়াকি-টকি সেট ও ১২ টি মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের সন্ধানে সেনা অভিযান চলমান রয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ আর্মি
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
কর্নেল (অব.) আকরাম: বিজয় ও পরাজয় উভয়ই একটি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তা জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। প্রতিটি জাতির ইতিহাসে বিজয় ও পরাজয় রয়েছে, যা জাতির গঠন ও অগ্রগতিতে ভিন্ন ভূমিকা পালন করে। কিছু জাতি তাদের সাফল্যের ইতিহাসে গর্বিত, আবার কিছু জাতি দুর্ভাগ্যবশত ব্যর্থতার ইতিহাসেই বেশি সমৃদ্ধ। মানব সভ্যতার উত্থান-পতন প্রকৃতির নিয়ম, যা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।
আমাদের জাতীয় উত্থান-পতনের ইতিহাস বুঝতে হলে আমাদের অতীতের পৃষ্ঠাগুলোতে ফিরে যেতে হবে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেনাবাহিনীকে মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে পরাজয়ে পরিণত করে। আমাদের নিজেদের ভুলের কারণেই বিদেশি শক্তি এদেশে প্রবেশ করে এবং দুই শতাব্দী ধরে আমাদের শাসন করে। কিন্তু আমরা সেই পরাজয়ের ইতিহাসকে বদলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির মাধ্যমে বিজয়ে রূপান্তর করি।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ সৃষ্টি হওয়া ছিল বাংলা মুসলমানদের জন্য এক বিশাল বিজয়। কিন্তু এটি খুব দ্রুতই কলকাতার হিন্দু অভিজাতদের ষড়যন্ত্র ও বিচারপতি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯১১ সালে বাতিল হয়ে যায়। এতে বাঙালি মুসলমানদের সম্ভাব্য সামাজিক উত্থান রুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের ভিতরেও বাঙালি মুসলমানদের জাতীয়তাবাদ আবার পরাজিত হয়।
পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই ভারত পাকিস্তানকে ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তথাকথিত বাঙালি জাতীয়তাবাদ নতুন করে প্রাণ পায়। পাকিস্তানের অপরিপক্ব সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ কখনোই যুদ্ধ চায়নি, এটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ২৫শে মার্চ ১৯৭১।
আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, কিন্তু বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বিদেশি শক্তি। পলাশীর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে ১৯৭১ সালে। আমরা বিজয় অর্জন করলেও তা পরাজয়ে রূপ নেয়। আজ চব্বিশ বছর পর আমরা বুঝতে পারছি, ১৯৭১ সালে আমরা কতটা বড় ভুল করেছি। আমরা নিজেরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করতে পারতাম, কিন্তু শত্রুর ফাঁদে পা দিয়ে চূড়ান্তভাবে হেরে গিয়েছিলাম।
১৯৭১ সালের বিজয়কে ভারত তাদের নিজের অর্জন হিসেবে দেখেছে এবং গত ৫৩ বছরে, জিয়াউর রহমানের ছয় বছরের শাসনকাল ব্যতীত, বাংলাদেশকে তারা তাদের উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর তারা আরও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, ১৯৭১-এর বিজয় তাদেরই।
বিএনপির ভুল এবং সেনাপ্রধান মইনউদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকতা, যিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় মীরজাফর, ভারতের হাতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর সুযোগ করে দেয়। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও বিজয় পরাজয়ে পরিণত হয়। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জাতিকে জিম্মি করে রেখেছিল এবং ভারত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রকৃত শাসক।
কিন্তু যখন জাতি সমস্ত আশার আলো নিভে যেতে দেখছিল, তখন ছাত্রদের নেতৃত্বে ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালে এক বিস্ময়কর বিপ্লব ঘটে এবং আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করি।
কিন্তু অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারিনি। আমরা ৫ই আগস্টের বিজয়ের পর একটি জাতীয় বিপ্লবী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছি। জুলাই বিপ্লবের অংশীদারদের মধ্যে বিভক্তি জাতিকে হতাশায় ফেলেছে। আমরা কি সঠিক পথে এগোচ্ছি, নাকি আবারও ভুল পথে পা বাড়াচ্ছি—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের।
আমাদের এই বিজয় কি হাজারো প্রাণ ও সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, তা কি আবার পরাজয়ে পরিণত হবে?
আমরা, বাংলাদেশিরা, আর কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করবো না। দলীয় স্বার্থের জন্য জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেউ যদি বিদেশি শক্তির সহায়তা নিতে চায়, জনগণ তা প্রতিরোধ করবে। অতীতের ইতিহাস আর দেখতে চাই না। এই বিজয় চিরদিনের জন্য অটুট রাখতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।