a
ফাইল ছবি
পাকিস্তানের কোয়েটায় সেরেনা নামের একটি বিলাসবহুল হোটেলে শক্তিশালী বোমা হামলা হয়েছে এবং এতে অন্তত ৪জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
বুধবার রাতে হোটেলে ওই হামলা চালানো হয়। বিবিসি ও ডন এমন খবর দিয়েছে।
কোয়েটা সফররত পাকিস্তানে চীনের রাষ্ট্রদূত ওই হোটেলে উঠলেও বিস্ফোরণের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
রাষ্ট্রদূত নিরাপদে আছেন জানিয়ে প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ লাঙ্গো বলেন, কিছু আগেই তার (রাষ্ট্রদূত) সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি। তিনি ভাল আছেন।
রাষ্ট্রদূতের সফর বৃহস্পতিবার শেষ হবে বলে জানান তিনি।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র লিয়াকত শাহওয়ানি এক টুইটে জানিয়েছেন, হামলার আগে দিনের বেলায় চীনা রাষ্ট্রদূত নঙ রঙ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জাম কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেরেনা হোটেলের কার পার্কিংয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
স্থানীয় একটি হাসপাতালের কর্মকর্তা ওয়াসিম বেগ চারজনের মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানান এবং বলেন, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালেবান। তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি ছিল একটি আত্মঘাতি হামলা।
হামলাটি চীনা রাষ্ট্রদূত কিংবা প্রতিনিধি দলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে এ অঞ্চলে এর আগেও চীনের নাগরিক এবং বিভিন্ন প্রকল্পে তালেবানরা হামলা চালিয়েছে।
বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের নিকটেই রয়েছে ইরানের কনস্যুলেট এবং প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভবন।
ফাইল ছবি
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে তুরস্ক-ফিলিস্তিন সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষে গতকাল শুক্রবার তিনদিনের সফরে গেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
তুরস্কের যোগাযোগ দফতরের এক বিবৃতিতে জানা গেছে, সফরকালে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন নিয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন নিয়েও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করবেন মাহমুদ আব্বাস। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন দু'দেশের প্রেসিডেন্ট।
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
একজন নাগরিক হিসেবে আবেদন করেছেন জানিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সবাইকে আল্লাহ বাঁচাইছে, বেনজীর সাহেব বেশিদিন সময় পাননি। আর কিছুদিন সময় পেলে গোপালগঞ্জ কিনে নিতেন উনি। পুলিশে যারা অসৎ হবেন বেনজীর সাহেবকে আদর্শ ধরে নেবেন।
রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ একটি পত্রিকা ঢাকায় ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে। ৩৪ বছর পর ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর বেনজীর আহমেদ অবসরে যান। অবসরের পর বেনজীর আহমেদ চাকরিকালীন স্ত্রী ও মেয়ের নামে অনেক সম্পদ গড়েছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবেদনে আরও বলা হয়, বেনজীর ও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ এবং কন্যা সন্তান তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে বেনজীর তার পদের অপব্যবহার করে উল্লিখিত সম্পত্তি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অর্জন করেছেন। আবেদনে তিনি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, কন্যা ফারহিন রিশতা বিন্তে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের অবৈধ সম্পদ বিষয়ে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করছি।
আবেদন জমা শেষে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যে রিপোর্ট আছে, প্রায় হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের। উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসছে পত্রিকায়। এটার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইনকোয়ারির ব্যবস্থা না দেখে আমি দুদকে এসেছি।
তিনি বলেন, আমি বলেছি এটা ইনকোয়ারি করা দরকার। কারণ যদি সাবেক আইজিপির এতো সম্পদ থাকে, তাহলে পুলিশ ফোর্সের মধ্যে যারা সৎ অফিসার আছেন তারা খুব বেশি ফ্রাস্ট্রেটেড হবেন। সৎ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এটা যদি সত্য হয়, যারা অসৎ আছে তারা প্রতিযোগিতায় নামবে আমরা সবাই বেনজির হতে চাই। এর জন্য মনে হয়েছে এটা দেশের জন্য ভয়ানক বিষয়। এটা ইনকোয়ারি হওয়া দরকার। দুদক আমলে না নিলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিষ্কার হাইকোর্ট আছে।
দুদক অনুসন্ধান শুরু না করলে হাইকোর্ট যাবেন বলে জানান ব্যারিস্টার সুমন।
এর আগে শনিবার (২০ এপ্রিল) পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আমার কিছু কথা’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে তিনি অবৈধ সম্পদ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার দালিলিক প্রমাণ দিতে পারলে প্রমাণদাতাকে সেই সম্পদ বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সূত্র: ইত্তেফাক