a
সংগৃহীত ছবি
২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ স্থগিত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। আগামী ২৯ জুন থেকে ফরম পূরণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ফরম পূরণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ স্থগিত করা হলো। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে এইচএসসি ২০২১ সালের পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রমের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: গত ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে পরীক্ষা বাতিল এবং পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
আজ ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই দাবি এবং প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। কিন্তু পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কারণে তারিখ পরিবর্তন করে ১২ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বিএসএস সূত্রে) জানা যায় যে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে “৯০% কমন সাজেশন” দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মতিউর রহমান নামের একজনকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবুও ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে Zahid Khan (All Exam Helper) নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে পরীক্ষার পূর্বের রাত ২টা ৬মিনিটে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ এক অভিযানে স্বাধীন মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।
আমরা পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত অভিযোগ ও অনিয়মগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি:
অভিযোগসমূহ:
১. প্রশ্নফাঁস: পরীক্ষার পূর্বে ও চলাকালীন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার আগে ও পরে দুইজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
২. অবিভাগীয় প্রার্থীদের অংশগ্রহণঃ
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এতে বৈধ প্রার্থীদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে। এই পরীক্ষা কেবল বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য হলেও আবেদন প্রক্রিয়ার দুর্বলতার সুযোগে বহিরাগত প্রার্থীরাও
উদাহরণস্বরূপ:
কেন্দ্র সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা, রুম নং ৩১১, রোল: ১৩৬২০
কেন্দ্র। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রোল: ০০৪৭৭৪ (মহিলা)
৩. পূর্বে প্রাথমিক বিভাগে কর্মরত কিন্তু বর্তমানে অন্যত্র চাকরিরত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ: ২৬/০৬/২০১৩ইং তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় অনেক বিভাগীয় প্রার্থী অন্য চাকরিতে চলে যায়। তাদের পূর্বে আবেদন করার সুযোগ থাকায় তারাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, ফলে বিভাগীয় প্রার্থীদের বাছাই জটিল হয়ে উঠেছে।
৪. প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা: পিএসসি কর্তৃক নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করা হয়নি। একাধিক প্রশ্নে ভুল, অস্পষ্ট ও অগোছালো ছিল। বিশেষ করে গোলাপি রঙের প্রশ্নপত্র ছিল ঝাপসা, ফন্ট সাইজ অত্যন্ত ছোট। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর বয়স ৪৫ বছরের কাছাকাছি হওয়ায় এই ব্যবস্থাপনা আরও অসুবিধা সৃষ্টি করেছে।
৫. প্রশ্নফাঁস চক্রের আর্থিক প্রলোভন: পরীক্ষার্থীদের ফোনে যোগাযোগ করে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আড়াই হাজার টাকা অগ্রিম এবং বাকিটা পরীক্ষার পর পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার পরও কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়ার অফার দেওয়া হয়েছে। লিখিত (রিটেন) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ২০ হাজার টাকায় দেওয়ার চুক্তির কথোপকথনের স্ক্রিনশট আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
৬. প্রশ্ন কেনা ও উত্তরপত্র পূরণ সংক্রান্ত অভিযোগ: ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ (৩৭ নং সলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোল: ২০৪৭২) জানিয়েছেন, তার উপজেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন কিনে ৯০-এর বেশি নম্বর নিশ্চিত করেছেন। আরেকজন পরীক্ষার্থী জানান, তার পাশের পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পাওয়ার আগেই এডমিট কার্ডে লেখা উত্তর OMR শিটে পূরণ করে মাত্র ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শেষ করেন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ATEO পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। কিন্তু ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর পরীক্ষায় যে অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে, তা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, ন্যায়বিচার ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অতএব, আমরা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা বাতিল ও পুনঃপরীক্ষার জোর দাবি জানাচ্ছি।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পরীক্ষার ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নতুন প্রশ্নপত্রে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য পরীক্ষা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার স্বার্থে মাননীয় পিএসসি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ফাইল ছবি: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বৈঠক
কোটাবিরোধী আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ছে পুরো ঢাকা শহর ।
অপরপক্ষে, সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম নিয়ে আন্দোলন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অনুমান করা হয় এসব বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন সরকারের পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সামছুন্নাহার চাঁপা এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
কী বিষয়ে আকস্মিক এই বৈঠক হয়েছে সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৈঠকে কোটা আন্দোলন মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় ত্যাগ করেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। প্রথমেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বের হন। তবে তিনি এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পর বেরিয়ে আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনিও গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তারাও বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য দেননি।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি৷ এটা রুটিন মাফিক কথাবার্তা।
কোটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচলা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটা বা দুইটা বিষয় নিয়ে নয়। আজকের বসার বিষয়টা আপনারা জেনেছেন, এই বসাটা নিয়মিত। আমরা নিয়মিতই বসি। বিভিন্ন জায়গায় বসা হয়।
এরপর শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। যে বিষয়গুলো আলোচনা করেছি, আসলে সেগুলো নিয়ে এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনার মতো বিষয় নয়।
কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আদালতে যে বিষয়টি বিচারাধীন আছে, আমরা এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করব না। সেটা আদালতের বিষয়। আদালত থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, যেহেতু আদালতে যে বিষয়টি বিচারাধীন আছে সে বিষয়ে আমরা মন্তব্য করব না। অপেক্ষা করতে হবে। সরকার তো আপিল করেছে। সুতরাং আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাইনা। সূত্র: বিডি প্রতিদিন