a
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ২০ ঘণ্টা ধরে অনশন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অনশন শুরু করে এসব শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রাতে তীব্র শীতের মধ্যে তারা অনশন করে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনশন করে যাচ্ছিল সেসব ছাত্ররা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঠাণ্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে প্রায় ১০০ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি হননি। বরং ছাত্ররা শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাতে শিক্ষকরা রাজি না হওয়ায় তারা শিক্ষকদের সাথে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীরা অনশনে বসার পর আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা অন্যান্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের খাবার রান্না করা হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি: সংগৃহীত
তিন দফা দাবিতে আগামী ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবে সংগঠনটি।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান সমিতির নেতারা। দুপরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এসব দাবি জানায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠি বাতিল করতে হবে, জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের গেজেট অনুসারে কার্যকর চাকুরীকাল (৫০%) গণনা করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে এবং এসএমসি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকদের নামের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব-রাধা রাণী ভৌমিক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব-মহিউদ্দিন খোন্দকার, সহ সভাপতি-আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক-মোমিনুল ইসলাম, মো. মোশাররফ হোসেন, আজমল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সংগৃহীত ছবি
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে গত মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর আশপাশের ৭টি জেলায় কঠোর লকডাউন চলছে। আগামী বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশ থেকে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন রাখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। তবে সরকার কঠোর লকডাউন দিলেও মানুষের মধ্যে তার মানার ইচ্ছা নেই। তারা চলাচল করছেন স্বাভাবিক নিয়মেই। পার্থক্য শুধু লকডাউনে থাকা ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর পরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবু থেমে নেই মানুষের চলাচল। প্রাইভেটকার বা হেঁটে ঢাকায় ঢুকছেন মানুষ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এসব চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ধরে আশপাশের জেলা থেকে অনেকেই ঢাকায় প্রবেশ ও ত্যাগ করছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জরুরি কাজেই ঢাকায় আসছেন ও ঢাকা থেকে যাচ্ছেন। ভেঙে ভেঙে চলাচল করায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও।
ভৈরব থেকে আসা কামরুল ইসলাম জানান, জরুরি কাজে তিনি বাড়িতে গিয়েছিলেন। অফিস খোলা থাকায় তাকে ঢাকা ফিরতে হয়েছে। মাইক্রোবাস ও বিভিন্ন পরিবহনযোগে তিনি ঢাকায় এসেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা ছোট চাকরি করি। কাজ না থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে। অফিস ও বাড়ি দুই-ই সামলাতে হয়। করোনার কারণে বাইরে চলাফেরা করা ঠিক না, এটা আমরাও বুঝি। কিন্তু উপায় না পেয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে জরুরি কাজে সিরাজগঞ্জ যাবেন রতন মিয়া। তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়া খুবই দরকার। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ। কীভাবে যাব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তরা) মো. সাইফুল হক বলেন, ঘোষণা অনুযায়ী গাজীপুরেও লকডাউন চলছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের উত্তরার এই অংশে কোনো দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে না। সড়ক নিয়ন্ত্রণে আমাদের টিম কাজ করছে। তবে অনেকেই অটোতে, রিকশায় এমনকি পায়ে হেঁটে শহরে প্রবেশ করছে।
এদিকে গাবতলী ফাঁকা থাকলেও আমিনবাজার ব্রিজের ওপর থেকে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। প্রাইভেটকার ও ট্রাকের জটে মানুষ পায়ে হেঁটেই আমিনবাজার পাড়ি দিচ্ছেন। অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারও যাত্রী পরিবহন করছে। প্রাইভেট কারগুলো সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া গ্রহণ করছে।
ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ে একটি ছোট্ট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব রহিমা খাতুন। সম্প্রতি সৌদিপ্রবাসী ছেলেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় দিতে আসেন। যখন ঢাকায় আসেন তখন নোয়াখালী রুটে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাত জেলায় লকডাউন ও ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ পথে বাইরের জেলা থেকে জরুরি পরিবহন ছাড়া সব যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানতেন না বলে জানান।