a
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানে তালেবানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের স্থায়ীত্ব নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জবাবে মুখ খুললো তালেবান। তালেবান নেতা শাহাবুদ্দিন দিলওয়ার বলেছেন, আফগানিস্তানের সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তালেবানের সক্ষমতা সম্পর্কে ভারত শিগগিরই জানতে পারবে।
আজ বৃহস্পতিবার রেডিও পাকিস্তানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শাহাবুদ্দিন দিলওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভারত যেন আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে তালেবান সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।’
এসময় তিনি আফগানিস্তানের ৩০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ১ সপ্তাহ আগে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে একটি সাম্রাজ্য হয়তো কিছু সময়ের জন্য আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। তবে তার অস্তিত্ব কখনো স্থায়ী হতে পারে না। গত ২০ আগস্ট নরেন্দ্র মোদি এক টুইটার পোস্টে এসব কথা বলেছিলেন। সূত্র: পার্সটুডে।
ফাইল ছবি:জেনারেল আজিজ ও পেন্টাগনের মুখপাত্র প্যাট রাইডার
বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করলো মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর ‘পেন্টাগন’।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার বলেন, জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
ব্রিফিংয়ে প্যাটের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, “পেন্টাগন কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে তার সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নির্দেশ করছে। কারণ বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে তার উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। পুলিশ এবং র্যাবের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া বর্তমান সরকার যে কোনও উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পেন্টাগন কী ভাবছে, আমি কী তা জানতে পারি?”
জবাবে পেন্টাগন মুখপাত্র বলেন, “হ্যাঁ- প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আজকের ব্রিফিং কক্ষে আপনাকে স্বাগতম। আপনি যেমন জানেন বা আপনি যে বিষয়টি উল্লেখ করলেন যে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট জেনারেল আজিজ আহমেদের ওপর দুর্নীতির অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটি গত মে মাসে করা হয়েছিল। মূলত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনকে মজবুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতিকে নিশ্চিত করেছে এবং পেন্টগন বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী যেকোনও কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এ কথা বলে শেষ করতে চাই- বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের একই স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, সমুদ্রসীমা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে আমরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় রাখি।” সূত্র: ইউএস ডিফেন্স
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে আবু সায়েম মুরাদ (৩০) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহিত মুরাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০০৪-২০০৫ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। শনিবার (১৫ অক্টোবর) অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠানের খোঁজ নেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিল তিনি।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটি পুড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই বাসের চালক ও সহকারীকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ চালক ও সহকারীকে আটক করে।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আবু সায়েম মুরাদ নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ৮ নম্বর বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বাসটি পুড়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাস থেকে সহকারী তাকে ধাক্কা দেন। এতে আবু সায়েম মুরাদ নামের ওই যাত্রী সড়কে পড়ে মারা যান। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত মুরাদের ভাই আবু সাদাত সায়েদ অভিযোগ করেন, চলন্ত বাস থেকে মুরাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় মুরাদ ৮ নম্বর বাসে ছিলেন। মুরাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর পর ওই বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।