a
ফাইল ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনন্দন পত্রের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে লেখা এক পত্রে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।
মমতা পত্রে উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ উন্নয়ন, শান্তি, ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা এবং শক্তিশালী করার পক্ষে রায় দেন।বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, একই সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ আবেগ ও অনুভূতির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পশ্চিমবঙ্গকে অন্য উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মমতা বলেন, আপনাদের শুভ কামনা এ যাত্রায় সহায়ক হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফাইল ছবি: জো বাইডেন ও জেলনস্কি
ইউক্রেনকে রক্ষা করতে বা রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোসহ অন্যান্য দেশ যখন একাট্টা হয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক অবরোধ ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনকে। তখন হঠাৎ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কয়েকটি মন্তব্যে বিশ্বের নজর যুদ্ধের ময়দান থেকে এখন বাইডেনের মন্তব্য ঘিরে।
বাইডেনের সেসব মন্তব্যকে হালকা করে তুলে ধরে প্রকারন্তরে তাকে সমালোচনার হাত থেকে উদ্ধারে চেষ্টা করে যাচ্ছেন অনেক বিশ্বনেতা। নিচে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ করলে এর পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ইউক্রেনের শরণার্থীদের কাছে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনে বাইডেন পুতিনকে ‘কসাই’ আখ্যায়িত করেন। পোল্যান্ড সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইউক্রেনে হামলার নির্দেশ দেওয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর ক্ষমতায় থাকতে পারেন না।
জো বাইডেনের এসব বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ক্ষুদ প্রবীণ মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস। মার্কিন বৈদেশিক সম্পর্ক পরিষদের সভাপতি রিচার্ড হাস এক টুইট বার্তায় বলেন, 'বাইডেনের এই মন্তব্য একটি জটিল পরিস্থিতিতে আরও জটিল করবে এবং একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।'
অপরদিকে, একদিন পর রবিবার (২৭ মার্চ) পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার বক্তব্য নিয়ে সুর পাল্টিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও। এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, রাশিয়ার বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইউক্রেনে হামলা করায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘ক্ষমতায় থাকতে পারেন না’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নাদিম জাহাবী বাইডেনের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, মন্তব্যটি ক্রেমলিনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখ ফসকে বের হয়ে যাওয়া বক্তব্যের ব্যাখা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটোতে নিয়োজিত দেশটির দূত জুলিয়ান স্মিথ বলেছেন, বাইডেনের বক্তব্য ‘স্বাভাবিক মনুষ্য প্রতিক্রিয়া’।
ন্যাটোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত জুলিয়ানের কাছে— পুতিন ক্ষমতায় থাকুক যুক্তরাষ্ট্র তেমনটি চায় কিনা, বক্তব্য পরিষ্কার করতে বললে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ সম্পূর্ণ প্রশাসন মনে করে, ইউক্রেনে যুদ্ধের মুহূর্তে্ আমরা পুতিনকে ক্ষমতায়ন করতে পারি না।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে বাইডেনের জ্বালাময়ী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গার্ডিয়ানের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, পুতিনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।
পুতিনকে নিয়ে বাইডেনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, বাইডেনের মতো তিনি ওইসব শব্দগুলো ব্যবহার করবেন না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, সব কিছু করা উচিত উত্তেজনা থামানোর জন্য, যাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হয়। ম্যাক্রোঁ বলেন, তার লক্ষ্য প্রথমে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার। এটা করতে হলে কথা কিংবা কাজের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেরুজালেমে সফরে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন বলেন, 'আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট, হোয়াইট হাউজ গত রাতে এই বিষয়টি খুব সহজভাবে তুলে ধরেছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেন বা অন্য কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা আগ্রাসন চালানোর ক্ষমতা দেওয়া যাবে না।'
ব্লিনকেন এসময় আরও বলেন, আপনারা জানেন এবং আমাদের কাছ থেকে বারবার বলতে শুনেছেন, রাশিয়ায় বা অন্য কোথাও, এই বিষয়ে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা আমাদের নেই।
রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের পর আমেরিকা যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ন্যাটোর সদস্যগুলোকে নিয়ে একাট্টা বেধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেসব কৌশল অবলম্বন করেছেন তা অনেকটা সফল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করলেও, সর্বশেষ বাইডেনের উপরেল্লিখিত মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যে ইউক্রেনের যুদ্ধ ময়দান থেকে সবার কৌশল বাইডেনের মন্তব্য আড়াল করা।
লেখক: মোহা. খোরশেদ আলম, আন্তর্জাতিক কলাম লেখক, সম্পাদক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
ফাইল ছবি: বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার গত সোমবার এ আবেদন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে সোমবার আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি মতামত জানতে চেয়ে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনটি অল্প সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির জটিলতা বেড়েছে। তিনি হাসপাতালে কখনো কিছুটা ভালো থাকছেন, পরক্ষণেই তাঁর স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ফলে তাঁকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষণ না থাকায় তাঁর পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে নেতিবাচক নানা কথা বললেও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের অনেকে মনে করেন, সরকার চাইলে আদালতে না গিয়ে এমতাবস্থায় তাঁকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে পারে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে। ফলে এখন জেলে যাওয়া বা আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
৪০১ ধারাতেই বলা আছে, নির্বাহী আদেশে শর্ত ছাড়াই মুক্তি দেওয়া যায়। এমনকি সরকার সাজা মওকুফও করতে পারে। ফলে সরকারই শর্তহীন মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: প্রথম আলো