a
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে এনেছে রাশিয়া। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে সামরিক জৈব কর্মসূচিতে অর্থ যোগান দিয়েছে। রাশিয়া আরও অভিযোগ করেছে— ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত জৈব সামরিক কর্মসূচিতে অ্যানথ্রাক্স, প্লেগের রোগের মতো জীবানু রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর পেন্টাগন, রাশিয়ার এসব অভিযোগ ‘হাস্যকর’ হিসেবে মন্তব্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক এই অভিযোগ তুলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেছেন, ইউক্রেনে তারা জৈব কর্মসূচি গ্রহণের যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি তাদের সশস্ত্র বাহিনী অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্লেগ, কলেরা, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র রাশিয়ার এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন। সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
সংগৃহীত ছবি
আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর ঝড়ের গতিতে একের পর এক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে তালেবান। তালেবান আবারও আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করবে এসব সম্ভাবনায় অপরাপর অনেক দেশই উদ্বিগ্ন। তবে সবচেয়ে বেশি উৎকন্ঠায় আছে ভারত। খবর বিবিসি বাংলা।
এ প্রসঙ্গে দিল্লির জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় ভরদোয়াজ বলেন, অনেক দেশই আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকন্ঠায়, কিন্তু অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি স্বার্থ এখন ভারতের। তালেবান আবার ক্ষমতা নিলে ভারতের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য আফগানিস্তানের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে ভারত এখন জটিল এক সংকটে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারে ভারত গত দুই দশকে চার শতাধিক সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলারেও বেশি বিনিয়োগ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ডজন ডজন প্রকল্প ছাড়াও, দিলারাম-জারাঞ্জ মহাসড়ক নামে ২১৮ কিমি দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক তৈরি করে দিয়েছে ভারত। কাবুলে নতুন আফগান পার্লামেন্ট ভবনটিও তৈরি করেছে তারা।
চলমান শত শত প্রকল্পের কাজও এখন মুখ থুবড়ে পড়বে। যে উদ্দেশ্যে এসব বিনিয়োগ, তার ভবিষ্যৎ কী? এগুলো কি পানিতে যাবে? ভারতের নীতি-নির্ধারকরা এখন সে চিন্তায় অস্থির।
তবে শুধু ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের বিষয় নয়, বরং আরও অনেক কারণে ভারতের জন্য আফগানিস্তানের গুরুত্ব রয়েছে। মধ্য এশিয়ার বাজারে ঢোকার জন্য ভারতের জন্য আফগানিস্তান খুবই জরুরি। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এসবের চেয়েও বেশি।
নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ভরদোয়াজ বলেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে এবং লাদাখ নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের বিপজ্জনক দ্বন্দ্ব চলছে। এখন আফগানিস্তান শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হলে ভারতের জন্য তা এক বড় রকম মাথাব্যথা তৈরি হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান । ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজায় টানা কয়েকদিনের ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। বৃহস্পতিবার তিনি আফগান ও কিরগিজ প্রেসিডেন্টর সঙ্গে ফিলিস্তিনে সম্প্রতি ইসরাইলি হামলার বিষয়ে টেলিফোনে আলাপ আলোচনা করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট অফিসের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ইয়েনি শাফাক।
কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সদর জাপারোভের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোগান আশা করছেন আল-আকসা মসজিদ, গাজা ও ফিলিস্তিনিদের হামলাকারী ইসরাইলকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে তার সঙ্গে তুরস্কের পাশে কিরগিজস্তানকে থাকতে অনুরোধ করা হয়।
এ ছাড়া আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি ফিলিস্তিনে চলমান ইসরাইলি হামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইসরাইলকে মোকাবেলা করতে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আফগানিস্তানের যে কোনো জটিল পরিস্থিতিতে তুরস্ক পাশে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন এরদোগান।
এর আগে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গেও আলোচনা করেন এরদোগান। গত বুধবার আলেজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন এরদোগান। তিনি এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে গত ৯ মে পবিত্র শবে কদরের নামাজ শেষে আল-আকসা চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। এরপর ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী স্টান গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনীর নিশংস হামলায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন।