a ‘আমরা নতুন প্রজন্ম প্রতিহিংসা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই’
ঢাকা শনিবার, ২৪ মাঘ ১৪৩২, ০৭ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

‘আমরা নতুন প্রজন্ম প্রতিহিংসা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই’


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ১৫ আগষ্ট, ২০২২, ১২:৫১
‘আমরা নতুন প্রজন্ম প্রতিহিংসা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই’

ফাইল ছবি: ইশরাক হোসেন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এ নিয়ে বিএনপি নেতা ও ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন:

তা​রেক রহমান সহনশীল এবং উদার রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ২০০৪ সালে জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে টুঙ্গিপাড়ায় মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করার মধ্য দিয়ে।

১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের একটি ন্যাক্কারজনক ও কালো অধ্যায়। আমরা নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি তাঁদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করতে চাই। এই দিনে মরহুম ও তাঁর পরিবারের নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহতালার নিকট দোয়া করি। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

সিলেটে বিএনপির সমাবেশের একদিন আগে ছাত্রলীগ শোডাউন


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৯:২৩
সিলেটে বিএনপির সমাবেশের একদিন আগে ছাত্রলীগ শোডাউন

ফাইল ছবি

সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশের একদিন আগে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ মহানগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে মিছিল সহকারে অবস্থান নেন জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।

বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে শতাধিক মোটরসাইকেলযোগে স্লোগান দিতে দিতে পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে জিন্দাবাজার পয়েন্ট হয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এসময় বিএনপিবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রলীগের নেকাতর্মীরা।

এদিকে, বিএনপির সমাবেশস্থলের অদূরে ছাত্রলীগের এমন অবস্থান নেওয়া দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিছু সময় চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থানের পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জিন্দাবাজারের দিকে চলে যেতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জিন্দাবাজার হয়ে বন্দরবাজারের দিকে চলে যায়।
 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগের মিছিল আমরা মাদরাসা মাঠের দিকে যেতে দেইনি। মাদরাসা মাঠে ও চৌহাট্টায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসের সন্ধানে: কর্নেল আকরাম


কর্নেল আকরাম, কলাম লেখক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০২:৪৪
বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসের সন্ধানে: কর্নেল আকরাম

ছবি সংগৃহীত

 

ইতিহাস প্রতিটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, আবার কিছু জাতি তা থেকে বঞ্চিত। তবে মানব সভ্যতার স্বার্থে ইতিহাস সবসময় সত্যের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুল ইতিহাস জানবে, যা কোনোভাবেই সভ্য বিশ্বের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিহাসের মূল উদ্দেশ্য জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু বিকৃত ইতিহাস জাতিকে বিভ্রান্ত করে এবং বিপথে পরিচালিত করে, যার ফলে জাতি এক সময় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

যে কোনো জাতির উচিত সত্য ইতিহাস অনুসন্ধান করা, যদিও এটি কঠিন। কিন্তু জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই চেষ্টাটি করা আবশ্যক। আমাদের দুর্ভাগ্যজনক যে, স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের বিবৃতি জাতির সামনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে এবং অধিকাংশ ইতিহাসবিদ শাসকদের ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, বাকিরা নীরব থেকেছেন। অথচ, সত্য ইতিহাসের খোঁজ খুবই জরুরি, কারণ এটি একটি জাতির সাফল্য ও ব্যর্থতা উভয় থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য পথ-নির্দেশনা দেয়।

আমাদের জাতি শুরু থেকেই এক বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে—স্বাধীনতা ঘোষণা আসলে কে করেছিলেন? ইতিহাসের নিরিখে এটি মেজর জিয়াউর রহমান, যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে ফেলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এ ঘটনার সাক্ষী আজও জীবিত, যেমন ড. কর্নেল অলি আহমদসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আওয়ামী লীগ একটি ভিন্ন বিবৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে যে, শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ তাজউদ্দীন আহমদসহ কয়েকজন নেতার অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ মুজিব সে সময় কোনো ঘোষণা দেননি। পরে পাকিস্তান কর্তৃক বন্দি হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সময় কাটান। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি স্বাধীনতার যুদ্ধেও অংশ নেননি, তবে যুদ্ধের পর নিজেকে একমাত্র নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সব চেষ্টা করেছিলেন।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়, কারণ ওই দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। এটি ভারতের জন্য একটি গৌরবময় ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে একটি বিদেশি দেশের সঙ্গে আমাদের বিজয় ভাগ করে নিই? এটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যার সমাধান জাতীয় স্বার্থে করতে হবে। ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ মুজিবনগর সরকার ঢাকায় ফিরে এসে বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাই, ২২ ডিসেম্বরকে আমাদের বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।  

স্বাধীনতার সময় এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা ইতিহাস থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ মুজিবের ব্যর্থতাগুলি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মৌলানা ভাসানীসহ অন্যান্য নেতার ভূমিকাকেও উপেক্ষা করা হয়েছে।

আমাদের ইতিহাসকে মাত্র ২৪ বছরে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, অথচ আমাদের কয়েকশ বছরের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। মুসলিম শাসকদের, যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আমরা ভুলে গেছি। মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বর্ণনার অনুসরণে মুসলিম শাসকদের আক্রমণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও তারা বাংলা ভালো বেসেছেন, বাংলায় বসবাস করেছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।

মুসলিম নেতাদের, যেমন তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, পীর দুদু মিঞা, নবাব আবদুল লতিফ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী, স্যার সৈয়দ আমীর আলী, শেরে বাংলা ফজলুল হক, এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অবদানও ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো তথাকথিত ইতিহাসবিদদের কাজ, যারা তাদের ভারতীয় মনিবদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন এবং আজও সক্রিয়।

ভারতের সহযোগিতার কথা আমাদের ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের নিজস্ব প্রচেষ্টাগুলিকে তুচ্ছ করা হয়েছে। ভারত আমাদের বিজয়কে তাদের নিজের বিজয় হিসেবে ছিনিয়ে নিয়েছে, যা ইতিহাসের এক বড় ট্র্যাজেডি।

আমাদের ইতিহাসে এমন বহু অসঙ্গতি রয়েছে, যা সমাধান করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ইতিহাসবিদদের উচিত জাতির সামনে সত্য ইতিহাস তুলে ধরা। সত্য ইতিহাসের স্বার্থে এই সমস্ত বিষয় এখনই মীমাংসা করা জরুরি।

 

লেখক: ড. এস কে আকরাম আলী
সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি