a
ফাইল ছবি
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছেন।
তারা পরীক্ষা আয়োজক ও ব্যাংকে কর্মরত অন্তত তিনজনের নামও পেয়েছেন। তাদের ধরার জন্য অভিযানও চলছে। তাদের সঙ্গে এ অপকর্মে আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে বলেও গোয়েন্দাদের দাবি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও বলে যাচ্ছে, তাদের কাছে এমন তথ্য নেই। তবে প্রমাণ মিললে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল গত ৬ নভেম্বর। ওই পাঁচ ব্যাংকে এক হাজার ৫১১টি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় এক লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল সেদিন। সেদিনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই দাবি করেছেন, আগেই প্রশ্নপত্র অনেকের কাছে ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের কেউ কেউ পোস্ট দিয়ে এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ ভাষ্য ছিল- প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার যে দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে তার সত্যতা পেয়েছেন। যে প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছিল, তা হুবহু আগেই অনেক শিক্ষার্থীর কাছে চলে গেছে- এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এবার ব্যাংকের প্রশ্ন ফাঁসের এই সিন্ডিকেটের মধ্যে দু'জন ব্যাংকার ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত এমন কয়েকজনকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. হারুন-অর রশিদ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আজকালের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। এর বেশি এখন বলতে চাই না।
প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে কিনা- এর উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা অনেককে খুঁজছি।
তবে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ২৬ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে আমরা এখনও এমন কোনো প্রমাণ পাইনি। তদন্ত চলছে। আমরাও চাই সত্য উদ্ঘাটিত হোক। যদি প্রশ্ন ফাঁসের সন্দেহাতীত প্রমাণ মেলে, তবে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবার পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার দায়দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মাধ্যমে সম্পাদন করে। আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়।
একাধিক সূত্রমতে, আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আইসিটি টেকনিশিয়ান (হার্ডওয়্যার অ্যান্ড সফটওয়্যার) মো. মুক্তারুজ্জামান তার প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েক সহযোগী ছিল। তবে অন্যদের নাম এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চক্রের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের সাভারের নবীনগর শাখায় কর্মরত জানে আলম মিলনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখায় অফিসার পদে কর্মরত শামছুল হক শ্যামলও ছিলেন। জানে আলম ও শ্যামলকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক জায়গায় অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি চক্র সক্রিয় ছিল- এমন তথ্য জানার পর পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকে গোয়েন্দা ফাঁদ পাতা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নাম সামনে আসে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে ছদ্মবেশী চাকরিপ্রার্থী সেজে যোগাযোগ করেন গোয়েন্দারা। প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম সদস্য স্বপন নামে এক ব্যক্তি অগ্রিম টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে রাজি হয়। সব কিছু চূড়ান্ত হলে ছদ্মবেশী গোয়েন্দাদের সঙ্গে স্বপনের চুক্তি হয়- টাকা হাতে পেলেই পরীক্ষার অন্তত ৭ ঘণ্টা আগে একটি 'সেফ হাউসে' নেওয়া হবে। যেখানে চাকরিপ্রত্যাশী প্রশ্ন সরবরাহ করে উত্তর মুখস্থ করানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এমন কৌশল প্রয়োগ করেই স্বপনের খোঁজ মেলে। পরীক্ষার আগে তার কাছে হুবহু প্রশ্নপত্র চলে আসে। স্বপনের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা জানে আলমসহ আরও কয়েকজন ব্যাংকার এবং অন্যান্য পেশার লোকের সঙ্গে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্য বলছে, পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের সবার কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায়।
জানা গেছে, জানে আলম, মুক্তারুজ্জামান ও শ্যামল মিলে চার দফায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছে। পুলিশের তদন্ত বলছে, অন্তত ৩০০ জনের কাছে তাদের মাধ্যমে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন চলে যায়। ৭-১৫ লাখ টাকায় একেকজনের কাছে প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী অধিকাংশ চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে পরীক্ষার আগে ২০ শতাংশ টাকা নিয়ে নেয় চক্রটি। বাকি টাকা লিখিত পরীক্ষার আগে ২০ শতাংশ ও সর্বশেষ বাকি অর্থ চাকরি হওয়ার পর পরিশোধের শর্ত ছিল। স্বপনের দায়িত্ব ছিল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করা। জানে আলম ও সামছুল হক সেফ হোম বা বুথে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন দিয়ে তা মুখস্থ করার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করার দায়িত্ব ছিল মো. মুক্তারুজ্জামানের। সূত্র: সমকাল
ফাইল ছবি
সিলেটের আবাসিক হোটেল যেন ‘মিনি পতিতালয়’। পুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না অসামাজিক কাজ। চিহ্নিত হোটেলগুলোর মালিকদের ডেকে এনে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে- চিহ্নিত হোটেল মালিকরা সতর্ক না হওয়ায় পুলিশ আবাসিক হোটেলে অভিযান জোরদার করেছে। তিনটি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৪ জন নারী-পুরুষকে। সিলেটের ৩ এলাকার আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটের উত্তর অংশের সুরমা মার্কেটের দু’টি আবাসিক হোটেল ও বন্দরবাজার এলাকার কয়েকটি হোটেল।
এ ছাড়া অপরাধ জোন দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি হোটেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এসব হোটেলের মালিকদের পুলিশের বড় কর্তারা সতর্ক করলেও মূলত থানা ও ফাঁড়ির মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এই অসামাজিক কাজে শেল্টার দিয়ে থাকে। লালদিঘীর পাড়ের হোটেল সোনালী।
গত এক বছরে একাধিকবার ওই হোটেলে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। প্রতিবারই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে অসামাজিক কাজে নিয়োজিত নারী ও পুরুষকে। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার শুরু হয় অবৈধ ব্যবসা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন শুধু অসামাজিক কাজ নয়, এসব হোটেলে মাদকের হাট গড়ে তোলা হয়েছে। ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে এসব হোটেলে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেটের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত রোববার সন্ধ্যারাতের দিকে সোনালী আবাসিক হোটেলে ফের অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ যুবক ও ৩ যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন- হোটেল সোনালীর বিরুদ্ধে অসামাজিক কাজের অভিযোগ ওঠায় মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সতর্ক হয়নি। সুরমা মার্কেটের নিউ সুরমা আবাসিক হোটেল। সিলেটের পরিচিত অসামাজিক কাজের স্থান এটি। অনেকটা প্রকাশ্যেই ওই হোটেলের মালিকপক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে অসামাজিক কাজ।
গত ৬ মাসে অন্তত ৬-৭ বার এই হোটেলে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কখনো কখনো পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ হোটেলের অভিযানে অংশ নেন। এরপরও হোটেলে অসামাজিক কাজ বন্ধ হয়নি। বরং মাঠপর্যায়ের পুলিশের শেল্টার নিয়ে হোটেলের মালিকপক্ষ প্রকাশ্যেই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত সুরমা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। অভিযোগের পর অভিযোগ ওঠায় গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় হোটেল থেকে ২ যুবতী ও ৬ যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে এসএমপি অ্যাক্টের ৭৭ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেক নিরাপদ জোন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি আবাসিক হোটেল। এর মধ্যে হোটেল তিতাস ও হোটেল প্রভাতী হচ্ছে পরিচিত হোটেল। ওই হোটেলে গত ৩ মাসে একাধিকবার অভিযান চালালেও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরস্থ তিতাস হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ৩ জন নারী ও ৭ পুরুষসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মো. রোকনুজ্জামান চৌধুরী পিপিএম এর নেতৃত্বে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন- গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে হোটেল প্রভাতীতেও অভিযান চালানো হয়েছিল। এ সময় ওই হোটেল থেকে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবক-যুবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানিয়েছেন- অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে ইতিমধ্যে নগরীর সবগুলো হোটেল মালিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। যাতে কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত না থাকেন। এরপরও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না করায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব হোটেলের মালিক পক্ষের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সুত্র: দৈনিক মানবজমিন (শেষের পাতায় প্রকাশিত)
ছবি সংগৃহীত: গ্রামীন ব্যাংক ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ও অতিথিবৃন্দ
অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এবার মিডিয়ার সামনে আসলো ড. মুহাম্মদ ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের অধিকার বিষয়ে খবর। দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে আসলেও এখনো হয়নি চাকরি স্থায়ী করন। পায়না ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো কোন সুযোগ-সুবিধা। কারণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়নি বলে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের হাতে গড়া স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকে আর যেন বৈষম্যের শিকার না হয় তাহলে প্রেক্ষিতে আজ ৩১/০১/২০২৫, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
গ্রামীন ব্যাংক ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটি) এর সভাপতি আলাউদ্দিন আল মামুন মূল বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা নেবেন। আমরা গ্রামীণ ব্যাংকে দৈনিক ভিত্তিক কাজে লোক' হিসেবে কর্মরত আছি। দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ আমরা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে আসছি। আমাদেরকে ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো কোন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। কারণ আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়নি। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অধিকার পেতে চাই। বর্তমানে দেশে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে।
আমরা দীর্ঘদিন আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের হাতে গড়া স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকে আমরা দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোক হিসেবে নিয়োজিত। আমরা ১৯৯২ সাল থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে একটি নির্যাতিত ও বৈষম্যের শিকার। দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত আমাদেরকে অস্থায়ীভাবে কাজ করানো হচ্ছে। গ্রামীন ব্যাংক, ব্যাংক প্রতিষ্ঠান হলেও আমাদের নাই কোন সরকারি ছুটি, নাই কোন ব্যাংকিং ছুটি, নাই সাপ্তাহিক ছুটি, এমনকি ঈদ, পূজাতেও নাই কোন ছুটি । কোন কারণে আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের কেউ অসুস্থ বা নিজেও অসুস্থ হলে সেদিনের বেতন দেয়া হয় না। তার কারণ আমাদের চাকুরী স্থায়ী নয়। দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের দাবি স্বনামধন্য গ্রামীণ ব্যংক যে বাংলাদেশের আইন মানছে না তার জন্য কি বর্তমান সরকারের কিছুই করণীয় নাই।
আমরা পরিবার- পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা আমাদের জীবনের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বেশী দেই। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের কারণে আমরা খেয়ে পরে বেঁচে আছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের কাছে আমাদের দাবি আমাদেরকে একটু বাঁচার অধিকার দিন। আমরাও দেশের নাগরিক। দেশে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আমরাও গ্রামীণ ব্যাংকের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা নানান ভাবে ভূমিকা রেখেছি। এখন এই দেশে বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি চাই। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাজই হচ্ছে দেশের সকল বৈষম্যের অবসান ঘটানো। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। আমরা মনে করি ২০২৪ জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান তখনই সফল বলা যাবে যখন দেশে আর কোন বৈষম্য থাকবে না।
আপনারা জানেন আজকের বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্যার এই গ্রামীন ব্যাংকের বদৌলতেই শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হয়েছেন । গ্রামীণ ব্যাংক আমাদেরকে ব্যাংকের সকল নিয়ম-কানুন মেনে ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা বোর্ড তৈরী করে আমাদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন । গ্রামীণ ব্যাংক আমাদেরকে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান তার পরিধি বাড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু আমাদের এই সেক্টরের লোকদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়নি ।
গ্রামীণ ব্যাংকে পিয়ন-কাম-গার্ড নিয়োগের নিমিত্তে শুরুতে পত্রিকায় যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন তার একটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরছি। অনুচ্ছেদ (১৬.৬.৯) দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত পিয়ন-কাম-গার্ডদের দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ নয় মাসের মধ্যে হয় স্থিরকৃত বেতন প্রদান করতে হবে অথবা কাজকর্ম সন্তোষজনক না হলে অব্যাহতি দিতে হবে। দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত পিয়ন-কাম-গার্ডদের কোন অবস্থাতেই নয় (৯) মাসের বেশী দৈনিক ভিত্তিতে রাখা যাবে না' । এই ছিল ব্যাংকের নিয়োগ পক্রিয়া। কিন্তু নিয়োগ পরবর্তীতে আমাদের আর স্থায়ীকরণ করা হয়নি। আমরা ব্যাংকের এই বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছি। আমরা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি পেশ, মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, সুধি সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন করি।
২০১৫ সালে আমাদের গ্রামীন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভূক্ত হয়। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকেও আমাদের দাবি জানাই। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্রম উপদেষ্টা বরাবর আমাদের দাবি কয়েকবার তুলে ধরেছি। আমরা আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠানের ৪০টি জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজারদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তুলে ধরেছি। আমরা ২০১৮ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। আমাদের কর্মসূচিতে দেশের অনেক বিবেকবান ব্যক্তি সংহতি জানান ৷
আমরা একসময় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, মিরপুর- ২ এ কর্মসূচি পালন করি। সেই কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠানের মদতে আমাদের উপর আক্রমন করে কর্মসূচি নস্যাৎ করে। বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করার অপরাধে গ্রামীণ ব্যাংকও আমাদের অনেক সহযোদ্ধাদের চাকুরীচ্যুতি, বদলী, হুমকি-ধামকি দেয়। আমাদের চাকুরী স্থায়ী না হলেও প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে স্থায়ী কর্মীর মতো করে বদলী করে, চাকুরীচ্যুত করে।
গ্রামীণ ব্যাংক দেশের একটি সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। দেশের আর কোন এনজিও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভূক্ত নয়। আমরা এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলি। আমরা কাজ করলে মজুরী পাই না করলে নাই। তারপরও প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে নানাভাবে শোষণ করে। আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী বিদায়কালীন পেনশন দেয়ার কথা বলে প্রতি মাসে ৪৩০০ টাকা করে জমা করা হয়। যার পরিমান বছরে দাঁড়ায় ৫১,৬০০/- টাকা । আমাদের ২০ বছর চাকুরী হলে গচ্ছিত টাকার পরিমান দাঁড়ায় ১০,৩২,০০০/- টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান সার্কুলার জারী করেছে আমরা ২০ বছর চাকুরী করলে আমাদেরকে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা দেবে। এই সামান্য টাকা নিয়ে আমরা কি করবো ? আমরা আমাদের জীবনের মূল্যবান বয়স এই প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করছি। জীবনের শেষ বেলায় আমাদের ভাগ্যে লাঠি আর বাটি ছাড়া কিছু জুটবেনা। এ এক বড়ই নির্মম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অডিট রিপোর্টে গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়োগের ব্যাপারে নানান অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। অডিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি, নিয়োগ পক্রিয়া সংশোধনের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ করে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তারপরেও আজ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন নির্দেশনা মানছে না। আমরা আজ এই সময়ে দাঁড়িয়ে বলতে চাই আমাদের এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তার সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হোক।
আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২০০ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছেন। এর বাইরে রয়েছে গাড়ী চালক। সবমিলিয়ে প্রায় ৩৫০০ জন কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ৮০০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে। আমাদের দেশে আরো ছোট ছোট অনেক এনজিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের সকল কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত। আমরা মনে করি গ্রামীণ ব্যাংক তার সুনাম ধরে রাখতে অবিলম্বে আমাদেরকে স্থায়ীকরণ করবেন।
আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে আমাদের বৈষম্যের কথা, আমাদের মনের দুঃখ কষ্টের কথা দেশবাসীর কাছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা এই বৈষম্যহীন দেশ গড়ার কারিগরদের কাছে তথা দেশবাসী ও গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে আমাদের দাবি তুলে ধরছি।
দাবিসমূহ:
১। অবিলম্বে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন-কাম-গার্ড হিসেবে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়োগের ৯ মাস পর থেকে সার্কুলার অনুযায়ী স্থায়ীকরণ এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে যাদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে তাদেরও চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে।
২। নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র, সবেতনে সকল প্রাপ্ত ছুটি, বোনাস-সহ বাংলাদেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত অধিকার দিতে হবে।
৩। গ্রামীণ ব্যাংকের চাকুরীবিধি অনুযায়ী মাসিক বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, গ্রাচুইটি, ঋণ সুবিধাসহ সামাজিক নিরাপত্তার যাবতীয় সুবিধা দিতে হবে।
৪। আন্দোলন ও সংগঠন দমনে শাস্তিমূলক ছাঁটাই, বদলী বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনের কারণে চাকুরীচ্যুতদের পুনর্বহাল করতে হবে। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
৫ । চাকুরী স্থায়ীকরণ করে নিয়োগের শুরু থেকে অদ্যাবধি সকল প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে।
১-৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা ও জোন পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন (মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, কর্মবিরতী)। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবীর পক্ষে (চাকুরী স্থায়ীকরণ) কর্তৃপক্ষ যদি কোন পদক্ষেপ না নেন তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।