a
ফাইল ছবি
দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন।
বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির (পাইলটিং) কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ যাতে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর হয়ে গড়ে ওঠে সে জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। চলমান ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে আরো ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয় বলে জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহিবুর রহমান, অধিদফতরের পরিচালক বদিয়ার রহমান, গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান প্রমুখ।
ফাইল ছবি
কাজাখস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন অনেক বাংলাদেশি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে দেশটি। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
কাজাখস্তান সরকার প্রতিবছর ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য এই বৃত্তি দেয়। কাজাখস্তান সরকার বছরে মোট ৫৫০ জন বিদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়। এর মধ্যে ওআইসিভুক্ত দেশের জন্য আছে ১০০ বৃত্তি।
লেখক কাজাখস্তানের আল ফারাবি কাজাখ ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিসে পড়াশোনা করছেন। দেশটিতে পড়াশোনার পদ্ধতি, পড়াশোনার মান, বৃত্তি, বৃত্তির আবেদনের পদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি।
পড়াশোনার মান:
কাজাখস্তানের শিক্ষার মান সমৃদ্ধ। কাজাখস্তানে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কাজাখস্তানের উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের শিক্ষা প্রণালি। কাজাখস্তানের সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা উন্নত শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাজাখস্তানে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো সুযোগ দেয়। কাজাখস্তানের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আধুনিক ক্লাসরুম, স্বাস্থ্যসেবা, হোস্টেল ও আধুনিক গবেষণাগার।
কাজাখস্তানে মোট ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কাজাখস্তান সরকার এ বছর স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি পর্যায়ে মোট ৫৫০টি স্কলারশিপ দিচ্ছে। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ৪৯০টি, মাস্টার্স পর্যায়ে ৫০টি ও পিএইচডি পর্যায়ে ১০টি।
পড়াশোনার মাধ্যম:
এখানে সাধারণত তিনটি ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়ে থাকে। রাশিয়ান, কাজাখ ও ইংরেজি। তবে এখানে এক বছর রাশিয়ান ভাষা প্রোগ্রাম করানো হয়ে থাকে চলাফেরা, চাকরি ও সংস্কৃতি বোঝার জন্য।
সুযোগ-সুবিধা:
১. সম্পূর্ণ টিউশন ফি ফ্রি।
২. প্রতি মাসে শিক্ষা ভাতা দেওয়া হবে। এটা ডিগ্রির ওপর নির্ভর করে।
৩. থাকার খরচ, ভিসা, যাতায়াত খরচ ও মেডিকেল ইনস্যুরেন্স কাভার করবে না।
৪. বাংলাদেশি ১০ টাকার বাস কার্ড দেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. আবেদন ফরম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
২. পাসপোর্ট।
৩. সার্টিফিকেট ও মার্কশিট।
৪. ২৫০ শব্দের একটা রচনা (যেটা লিখে দিতে হয়)।
৫. মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৬. দুটি রেকমেন্ডেশন লেটার।
৭. ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট।
৮. আইএলটিএসে ৫ দশমিক ৫ পেতে হবে।
৯. টোয়েফল আইবিটি: ৪৬১
১০. টোয়েফল পিবিটি: ৪৫৩
১১. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনভাইটেশন লেটার (যদি থাকে)।
** এখানে বলে রাখি অর্নাসের ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতার কোনো সার্টিফিকেট লাগে না। অন্য ক্ষেত্রে লাগবে।
আবেদনের পদ্ধতি:
১. আবেদনকারীকে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে।
৩. একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বিষয় বাছাই করতে হবে। আবেদন সফল হওয়ার পর একটা মেইল আসবে যে আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পরীক্ষার পদ্ধতি:
এখানে মূলত দুভাবে পরীক্ষা হয়ে থাকে। প্রথমটা সাইকোলজি টেস্ট, দ্বিতীয়টা অনলাইন ভাইভা।
১. সাইকোলজি টেস্ট: এখানে ৯০টা প্রশ্নের জন্য ৯০ মিনিট সময় থাকে। এ সময়ের মধ্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে। এমসিকিউ ধরনের এ পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
২. অনলাইন ভাইভা: সাইকোলজি টেস্ট পাস করার পর ইন্টারভিউয়ের জন্য মেইল পাঠাবে আপনাকে। ইন্টারভিউ ভাইভাতে পাস করতে পারলে ফাইনাল রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
সবশেষে সবার উদ্দেশে এটাই বলব, ইচ্ছা যদি এমন হয় যে আমি বাইরে পড়াশোনা করব বা করতে যাব, ভালো একটা ক্যারিয়ার গড়ব, বিদেশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করব, তাহলে জেনে–বুঝে আবেদন করুন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ধৈর্য, পরিশ্রম করার মনমানসিকতা থাকতে হবে। আর কাজাখস্তান হবে আপনার বিদেশে উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য।
লেখক: মাহতাব আজমাইন রিফাত, স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিস, আল ফারাবি কাজাখ ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ফটো: লিপি আক্তার
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছেলেকে মৃত ঘোষণার পর বাবা-মা অন্যত্র সরিয়ে নিচেত চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আনসার সদস্যরা। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মা লিপি আক্তারকে এবং বাবা লিটন মিয়া মারধর করেন আনসার সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢামেকের জরুরি বিভাগের ভেতরে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত লিপিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা স্থানান্তর করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মো. লিটন মিয়া বলেন, ‘হাসপাতালের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল তার ছেলে আমির হামজা। সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসকরা আমার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি বিশ্বাস হয়নি। এ সময় আমি আমির হামজাকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
জরুরি বিভাগের গেট দিয়ে বের হতেই আনসার সদস্যরা বাধা দেন এবং চার দিকের গেট আটকে দেন। এ সময় এনিয়ে তাদের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আনসার সদস্য আমার স্ত্রী লিপিকে তাদের কাছে থাকা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করাসহ কিল-ঘুষি মারেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি ছাড়াতে গেলে আমাকেও মারধর করেন আনসার সদস্যরা।
আহত লিপি আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে আমি নিয়ে যাবো, আনসার সদস্যরা কেন বাধা দেবে? এটা বলাতে তারা আমাকে মারধর করেছেন। আমার স্বামী ছাড়াতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। আমি এর বিচার চাই।
জরুরি বিভাগে থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, একজন নারীর গায়ে হাত তুলেছেন আনসার সদস্যরা। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। একে তো তার ছেলে মারা গেছে, এতে তার মাথা ঠিক থাকার কথা না। মা-তো পাগলামী করতেই পারেন। তাই বলে একজন নারীর গায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এভাবে হাত দেবে!
মৃত শিশুর বাবা মো. লিটন মিয়া আরও জানান, তাদের বাসা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কুনিপাড়া এলাকায়। তার একমাত্র ছেলে আমিরহামজা গত ১৯ মার্চ সকালের দিকে পূর্ব নাখালপাড়া এলাকায় একটি কারখানার টিনের ছাদে তার ঘুড়ি আনেত যায়। সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পরে যায়। এতে তার মাথায় আঘাত পায়। সেই দিনই তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
ঢামেক হাসপাতালের আনসার কমান্ডার (পিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগের মৃত শিশুর স্বজনদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। যদি কোনো আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীকে মারধর করার প্রমাণ মেলে, তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, শুধু আনসার সদস্য কেন? অন্য কেউ-ই কোনো নারীর গায়ে হাত দিতে পারেন না। এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন