a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: এখনি সময় সংস্কার পন্থি সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগণকে একই ছাতার নিচে একত্রিত করে সংস্কার তথা পরিকল্পিত সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দবস্তু, সুপ্রতিষ্ঠিত করে নতুন বাংলাদেশ বির্নিমানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা। "সংস্কার বিহীন নির্বাচন, গণতন্ত্র যাবে নির্বাসন" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংস্কার পার্টি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির উদ্যোগে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ, সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে, (তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল, ২য় তলায়) আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর ডঃ দিলারা চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেঃ জেনারেল আমিনুল করিম (অব) বিশিষ্ট অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল (BUP) ঢাকা। উক্ত আলোচনা আনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মেজর আমীন আহমেদ আফসারী (অব), নির্বাহী সভাপতি বাংলাদেশ সংস্কার পার্টি এবং আহ্বায়ক, জাতীয় সংস্কার জোট।
উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব, রাজনিতীবিদ, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি, সামাজিক সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব, সামরিক ও বেসামরিক অবসরপ্রাপ্ত/সাবেক কর্মকর্তা, রাষ্ট্রচিন্তক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বরের বিজয়ের পর থেকে ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশর রাজনৈতিক, বৈশ্বিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও দেশ পরিচালনার সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা আমারা সবাই জানি। ৫ আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবী বিজয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন না গণতন্ত্র! কতটুকু উন্নয়ন, কতটুকু গণতন্ত্র, উন্নয়ন আগে না গণতন্ত্র আগে? এ বিতর্ক আমরা স্বৈরতন্ত্রের কৌশল হিসেবে ৫ আগষ্টের পূর্ব পর্যন্ত শুনেছি।
৫ আগষ্টের পর শুনছি সংস্কার আগে নাকি নির্বাচন আগে? কতটুকু সংস্কার আর কবে নির্বাচন? ইত্যাদি বহুমুখী আলোচনায় আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও বিজয়ের নায়কদের আত্মদান ও শহীদের রক্তের অবদান কি ভুলতে বসেছি? ক্ষমতার মোহে আর আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগি করতে গিয়ে আমরা কি সংস্কার ও বিজয়ের ফসল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলতে বসেছি? আমরা কি পুনরায় আমরা আবার অন্ধকেরের দিকে ধাপিত হচ্ছি। এসব বিষয় নিয়েই হবে, আজকের আলোচনা।
বাংলাদেশ সংস্কার পার্টি মনে করে - "সংস্কার বিহীন নির্বাচন, গণতন্ত্র যাবে নির্বাসন"। সংস্কার কি ও কেন? কে করবে সংস্কার? কত দিন হবে এর ব্যাপ্তি? কি হবে নেতৃত্বের গঠন এবং কর্মপন্থা সবই নির্ধারিত হবে, প্রকৃতি গণতান্ত্রিক পন্থায় আলোচনার মাধ্যমে।
আসুন দেশের কথা ভাবি। ভবিষ্যৎ পজন্মের জন্য রেখে যাই এক অভূত পূর্ব "নতুন বাংলাদেশ"। প্রস্তাবিত এই প্রকৃত সংস্কার আন্দোলনে আপনি ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকলকে সাদর আমন্ত্রন জানাচ্ছি।
ফাইল ছবি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়কদের মাঝে বৈঠক
নিউজ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংগঠকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে।
গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১৫৮ জন সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৮৮ জন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সমন্বয় বাড়াতে বৈঠকে তিন ধরনের কমিটি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমত, এ সপ্তাহের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ২০ থেকে ২২ সদস্যের হবে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করাও থাকবেন।
দ্বিতীয়ত, একটি অর্গানাইজিং (সাংগঠনিক) টিম থাকবে। এই টিম একাধিক সেলে বিভক্ত থাকবে এবং সেল অনুযায়ী কাজ করবে। এই অর্গানাইজিং টিম নভেম্বর মাসের মধ্যে গঠন করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে অর্গানোগ্রাম দেওয়া হয়েছে, ৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, সেটি এই সপ্তাহের মধ্যে বর্ধিত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এ ছাড়া ১৫ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের ১০০ দিন উপলক্ষে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলনে আহতদের খোঁজখবর নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি; পাশাপাশি ঢাকায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, রিফাত রশীদ, আরিফ সোহেল, উমামা ফাতেমা, আব্দুল হান্নান মাসউদ।
বৈঠক শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ফসল হলো অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের উপদেষ্টা নিয়োগের সময় অবশ্যই আমাদের বক্তব্য নিতে হবে।
সমন্বয়কদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শুধু সরকারের গুণগান গাইব না। পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনাও করা হবে। এ ছাড়া মানুষের ভোগান্তি হয়, এমন কোনো কিছু করবে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তিনি জানান, বিপ্লবের ১০০ দিন উপলক্ষে আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে। আর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দেশব্যাপী আন্দোলনের কমিটি দেওয়া হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
আজ শুক্রবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনেই বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয় একটি ভূখণ্ড, যার নাম বাংলাদেশ। লাল সবুজের এ দেশটির স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী আজ।
আজ থেকে ৫০ বছর আগে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি এই কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করে। এই দিনটি বাঙালি জাতির সংগ্রামমুখর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৯৭১ সালের এই দিন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ দিনটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরও। এবার তাই উদযাপনেও যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে আসছেন। অংশ নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর যৌথ অনুষ্ঠানে। গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিন ব্যপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করে। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে শুরু করে নির্বিচারে গণহত্যা। এই গণহত্যা শুরু হওয়ার পরপরই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুধু এ দেশের জনগণই নয়, আক্রান্ত জাতি ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র, আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে ভারত। এই সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশাল ভূমিকা রাখে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)।
সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আরও ত্বরান্বিত করে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুক্তিকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী ও বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি বিজয় লাভ করে।