a
ফাইল ছবি
জ্বালানি তেল সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয় ঢাকা মেট্রো ল-২৯৭৪ নম্বরের লরিটি। তবে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, লরির ট্যাংকির ঢাকনা খুলে জ্বালানি তেলের পরিবর্তে পাওয়া যায় ট্যাংক ভর্তি অনেকগুলো বস্তা স্কস্টেপ দিয়ে পেঁচানো এসব চটের বস্তায় রয়েছে গাঁজা।
যার পরিমাণে ৩৬ কেজি।
অপরদিকে ইয়াবা আনা হচ্ছে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের বিশেষ কায়দায়। বুধবার (২৩ জুন) পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।
যে পাঁচজন গ্রেফতার হলেন- মো. রিগান খাঁন (২৭), মো. জনি খান (২৫), মো. জাকির হোসেন (২৪), মো. খোকন মৃধা (২৬) ও মো. হৃদয় শিকদার (২১)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন বলেন, দেশের সীমান্তবর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে তা ঢাকায় আনতে পুরোনো কৌশলগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহার করছে মাদককারবারিরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ট্রাক-লরি, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, যানবাহনের তেলের ট্যাংক-গ্যাসের সিলিন্ডারে করে আসছে ইয়াবা, গাঁজা ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক।
গোলাম সাকলায়েন আরও বলেন, এমন দুটি অভিনব কায়দায় মাদক বহনকালে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ওই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন সাংবাদিকদের জানান, কতিপয় মাদককারবারি কক্সবাজার থেকে ঢাকা হয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে অভিনব কৌশলে প্রাইভেটকারের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসছে এমন খবর পেয়ে বুধবার যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশিকালে নম্বরবিহীন প্রাইভেটকারসহ জনি খান ও হৃদয় শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
গোলাম সাকলায়েন বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেখানো মতে প্রাইভেটকারের পেছনের ব্যাক ডালায় সংযুক্ত খালি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই দিন বিকেলে অন্য এক অভিযানে শেওড়া বাসস্ট্যান্ড বটতলা থেকে জ্বালানি তেল বহনকারী ট্যাংক লরির মধ্যে ৩৬ কেজি গাঁজা বহনকালে রিগান, জাকির ও খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা এ বিপুল পরিমাণ গাঁজা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে আসছিলো বলেও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন।
ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন জানান, গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিকী ছবি
রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবোতে সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উত্তর বাসাবোতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাইফুলের বন্ধু মহিন জানায়, সাইফুল খিলগাও রেলগেট এলাকার বাসিন্দা। সে ইট-বালুর ঠিকাদারী ব্যবসা করে। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার রিপন, সুমন, উজ্জলদের সঙ্গে সাইফুলের ঠিকাদারী ব্যবসা সংক্রান্ত ঝামেলা চলছিল। এসব ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় উত্তর বাসাবো এলাকার শিকদার টেইলার্সের সামনে সাইফুলকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আত্বীয়-স্বজন খবর পেয়ে সাইফুলকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদুল ইসলাম জানান, গুলির ঘটনা ঘটেছে। তারা বিষয়টির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
ফাইল ছবি
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার রোধে পুলিশ এগিয়ে গেলে উচ্ছৃংখল ব্যক্তিরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ৬ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করে। শুক্রবার তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের লোকজন ওইদিন রাতভর তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা এলাকায় আতশবাজি করে। শুক্রবার সকালে ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। পুলিশ এতে বাধা দিলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পুলিশ পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের মো. আব্দুল মজিদের ছেলে মো. বিদ্যুৎ হোসেন (২০) ও কান্দারপাড়া গ্রামের দানেশ মণ্ডলের ছেলে মোর্শেদকে (৪০) আটক করে। এতে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় তদন্ত কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে দেয়ালের উপর দিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ, এসআই শফিউল আলম সোহাগ, এসআই সুলতান মাহমুদ, এএসআই মেহেদী হাসান, কনস্টেবল খোকনুজ্জামান ও সোলায়মান আহত হন।
তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানান, একাধিক মামলার আসামি মোর্শেদের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক সকাল থেকে কারখানা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। মোর্শেদকে আটক করা হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমিসহ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।