a
প্রতিকী ছবি
রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবোতে সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উত্তর বাসাবোতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাইফুলের বন্ধু মহিন জানায়, সাইফুল খিলগাও রেলগেট এলাকার বাসিন্দা। সে ইট-বালুর ঠিকাদারী ব্যবসা করে। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার রিপন, সুমন, উজ্জলদের সঙ্গে সাইফুলের ঠিকাদারী ব্যবসা সংক্রান্ত ঝামেলা চলছিল। এসব ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় উত্তর বাসাবো এলাকার শিকদার টেইলার্সের সামনে সাইফুলকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আত্বীয়-স্বজন খবর পেয়ে সাইফুলকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদুল ইসলাম জানান, গুলির ঘটনা ঘটেছে। তারা বিষয়টির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
রিকশাচালক শামীম
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে এলাকায় এক রিকশাচালকের কাছ থেকে ৬০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্যতার ভিত্তিতে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার (৮মে) দুপুরে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরদিন না খেয়েই রোজা রাখে ভুক্তভোগী ওই রিকশাচালক। ঘটনাটি গত ৪ মে মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের নজরে আসে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, এক অটোরিকশাচালকের সারারাতের আয় ৬০০ টাকা নিয়ে নিয়েছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য।
অভিযোগটি বেশ গুরুতর হওয়ায় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি সংশ্লিষ্ট ইউনিট কমান্ডারের কাছে পাঠিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করার অনুরোধ করেন।
এরপর অভিযোগর ভিত্তিতে তিন পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক এক অফিস আদেশে সাময়িকভাবে তাদের বরখাস্ত করে হাইওয়ে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ মে) মধ্যরাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রিকশা নিয়ে উঠার কারনে দায়িত্বরত পুলিশ ১০০০ টাকার চাঁদা দাবি করে। পকেটে এত টাকা না থাকায় ৬০০ টাকা দিয়ে নিজের রিকশা নিয়ে যেতে সক্ষম হয় রিকশাচালক শামীম। এই ঘটনায় পরবর্তীতে একাধিক অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।
মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে ভালুকা হাইয়ে পুলিশের ওসি জনাব মো. মশিউর রহমান শুরুতেই আশ্বস্ত করেছিলেন অভিযোগের সত্যতা মিললে তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
রিকশাচালক শামীম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার গাড়াজান পন্ডিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবনজীবিকার তাগিদে পরিবারসহ ভালুকা এমসি বাজার এলাকায় ভাড়া করা খুপরি ঘরে থাকেন এই রিকশাচালক।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: মাননীয় কৃষি উপদেষ্টা মহোদয় এর দৃষ্টি আকর্ষণে ১০ দফা দাবিসূমহ নিয়ে লং মার্চ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে কৃষক ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
আজ ২৭/০৪/২০১৫ ইং বিকাল তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার তৃতীয় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফসল বিগত পতিত সরকারের অবসান পরবর্তী আপনার ও আপনাদের মত ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে পেয়ে আমরা বাংলাদেশের আপমর কৃষক সমাজ আনন্দিত ও গর্বিত। আপনাদের শক্তিশালী ও দৃঢ় নেতৃত্বে দেশের কৃষি খাতকে আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতিতে শক্তিশালী বুনিয়াদ তৈরি করবে বলে আমরা কৃষক সমাজ বিশ্বাস করি। কিন্তু আপনাকে সম্মানের সহিত জানাতে চাই যে, আমাদের কৃষির উপর বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ নির্ভরশীল কিন্তু কৃষকরা এখনও অবহেলিত ও ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত।
কৃষিই আমাদের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে আমরা সবসময়ই আমাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যে পাই না। আমরা লক্ষ্য করেছি যে কৃষি পণ্য বিপণনে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফড়িয়া, পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজনের অসহযোগিতা এবং মজুদকারী চক্রের তৎপরতায় আমরা আমাদের বিনিয়োগকৃত পুঁজি হারিয়ে ফেলছি।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা যৌক্তিক কতগুলো দাবিগুলো তুলে ধরেন। দাবীগুলো হল-
১) আলু, পেয়াঁজ কমিশন গঠন, উপজেলা ভিত্তিক কাচাঁমাল সংরক্ষনাগার ও রপ্তানী কেন্দ্র স্থাপন করা।
২) ঢাকাসহ সারাদেশে কৃষকের বাজার স্থাপন করা।
৩) কৃষি প্রনোদনা ও কৃষিঋণ বিতরণ সহজ করা ও সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা।
৪) সিন্ডিকেট মুক্ত করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
৫) কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি, টোলপ্রথা বাতিল করা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে রেল বগি বরাদ্দ করা।
৬) কৃষকদের জন্য খাস ও পতিত জমি বরাদ্দ করা সহ কৃষকদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা ।
৭) সরকারীভাবে কৃষিবীমা চালু করা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
৮) সরকারী হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৫০ ভাগ ছাড়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করা।
৯) জাতীয় সংসদ,অন্যান্য জাতীয় কমিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাসিক সভায় অনুপাতিকহারে কৃষক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
১০) বীজ ও সার সিন্ডিকেট মুক্ত করে ডিলারদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা, প্রযুক্তি ও অ্যাপস আধুনিকায়ন ও বাস্তবমুখী করা।
এমতাবস্থায় সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে উপরোক্ত বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অতএব মহোদয় সমীপে আকুল আবেদন এই যে, দেশের কৃষকদের অভিভাবক হিসেবে অধিকার বঞ্চিত কৃষক ও কৃষিজীবী বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্যে ও উপরোক্ত দাবীগুলো বাস্তবায়নের জন্য আপনার মূল্যবান কার্যক্রম কামনা করছি।
সর্বশেষ তারা আশা পোষণ করে বলেন, আমরা আশা করি আপনার সদয় সহযোগিতায় দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নতির এক মাইল ফলক স্থাপিত হবে ইনশা আল্লাহ্।